বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট থাকা উচিত নয়: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫১ এএম, ০৬ মে ২০২৬
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. মাহদী আমিন

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো প্রকার ভ্যাট থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছিল, তখন আমাদের দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছিল, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ভ্যাট থাকা উচিত নয়। আমরা এখনো সেই অবস্থানে আছি। কোনো ভ্যাট থাকা উচিত নয়, রাখা হবেও না।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আজকে আমরা যে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নিয়ে কথা বলছি, এর পথযাত্রা কিন্তু শুরু হয়েছিল বিএনপি সরকারের সময়। আমরা সবাই জানি, যখন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তার হাত ধরেই নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। সুতরাং, বিএনপি সরকারের স্বাভাবিকভাবেই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির প্রতি একটি সফট কর্নার রয়েছে, পলিসি সাপোর্ট রয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিস্মরণীয় ভূমিকা উল্লেখ তিনি বলেন, আমরা দেখেছি গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও ফ্যাকাল্টি সদস্যরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। আজকের যে বাংলাদেশ সেখানে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

পাবলিক-প্রাইভেট একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মেধাভিত্তিক, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সুষম বণ্টন দরকার। পলিসি মেকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন- দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সমানভাবে দেখার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় সব প্রতিষ্ঠান এক ক্যাটাগরিতে থাকে না। আমাদের দেশেও কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটির উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমাদের একটি বড় লক্ষ্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন তৈরি করা, যা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। ঢাকায় অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক অফিস, ইন্ডাস্ট্রি, ফ্যাক্টরি- সবই আছে; কিন্তু তাদের মধ্যে কার্যকর কোনো সংযোগ নেই।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় হাইটেক পার্ক, ইকোনমিক জোন, ইপিজেড রয়েছে। কিন্তু, এগুলো আন্ডার ইউটিলাইজড। অনেক ক্ষেত্রে এক কিলোমিটারের মধ্যেই ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কোনো লিংকেজ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় থাকে। প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আইসিটি ডিভিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারগুলোর সঙ্গে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদরা। এতে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

এএএইচ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।