শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস পদ হারানোর পর ওমর ফারুকের নতুন পদায়নও বাতিল
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) পদ হারানোর পর এবার আলোচিত তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের নতুন পদায়নও বাতিল হয়েছে। গত ১৪ মে তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়ন করে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন বাতিল করে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে প্রেষণে নিয়োগের আদেশটি বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা যায়, মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০১-২০০৬ সালে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলেও বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করেন। ছিলেন সুবিধাভোগীও।
চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠন করলে ফের এহছানুল হক মিলনের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ওমর ফারুক দেওয়ান। মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী হওয়ার পর তাকে সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ দেন।
তথ্য ক্যাডার থেকে মন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই চলছিল আলোচনা। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তার লেখা প্রশংসামূলক বিভিন্ন কলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বদলি, তদবির, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওমর ফারুক দেওয়ানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠানোর পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা আসে। পরে শিক্ষামন্ত্রী তার ‘আস্থাভাজন’ ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়নের সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গত ১৪ মে তাকে পদায়ন করা হয়।
তবে এবারও বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৯ মে) আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওমর ফারুক দেওয়ানের নিয়োগ বাতিল করেন। এতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগদানের আগেই তার নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়।
ফারুকের নিয়োগ বাতিল হওয়ার নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের পদটি তৃতীয় গ্রেডের (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার)। কিন্তু ওমর ফারুক দেওয়ান বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তা। চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাকে বিধি লঙ্ঘন করে তৃতীয় গ্রেডের পদে পদায়ন করা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
এএএইচ/এমকেআর