ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কখনো কুণ্ঠিত হননি : ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রয়াত কবি-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এদেশে যখন মানুষের সত্য বলার সাহস ছিল না, তখনো তিনি সত্য প্রকাশে কুণ্ঠিত হননি।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘কবি-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে এ স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সত্যাশ্রয়ী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান। উপাচার্য বলেন, সত্য প্রকাশের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে দেশের কবি, সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভারতের বিশিষ্ট কথা-সাহিত্যিক দেবেশ রায় ‘উপন্যাসের সংকট’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা মিসেস রাশিদা জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন উপ-রেজিস্ট্রার মিসেস সাহেনা আক্তার।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরের খড়কি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে বিএ সম্মান, ১৯৫৯ সালে এমএ এবং ১৯৬৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সাহিত্য কর্মে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হন।
২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।
এমএইচ/বিএ