ফণীতে ক্ষতিগ্রস্ত সাত শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২৮ মে ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ফণী ও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের সাত শতাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবকাঠামো এবং ভূমি ক্ষতি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিপিই সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলে ফণীর তাণ্ডবে শতাধিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ফণীর পর বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিতে আরও তিন শতাধিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডিপিই পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক নুরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ফণীতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়া, মাটির তৈরি ঘর ভেঙে পড়া, ক্লাস রুমের ভেতরে পানি ঢুকে মেঝের ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ফণী ছাড়াও বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে আরও তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে। গত তিন মাসে চার শতাধিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, সাধারণত যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এজন্য কোনো দুর্যোগে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ডিপিই সেভাবেই কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো মেরামত করতে ইতোমধ্যে ১০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ইইডি ইতোমধ্যে উপকূলীয় জেলায় ২৯৯টি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার তালিকা তৈরি করে এগুলোর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ২৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ইইডি’র পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

edu-01.jpg

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকা অনুযায়ী, ইইডি’র জরুরি ফান্ড (তহবিল) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার ও মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী আগস্টের মধ্যে মেরামতকাজ সম্পন্নের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কাজ শেষ করতে ইইডি’র মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে খুলনা জোনে (কয়েকটি জেলা নিয়ে একটি জোন) ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাগেরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বরিশালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার ক্ষতির পরিমাণ ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪টি প্রতিষ্ঠান, ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ভোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

এছাড়া পিরোজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ ৬২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, গোপালগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ আট লাখ টাকা, নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ লাখ টাকা, লক্ষ্মীপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মৌলভীবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ ছয় লাখ টাকা, দিনাজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতির পরিমাণ ১৮ লাখ টাকা এবং চাঁদপুরে ক্ষতিগ্রস্ত আট প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৩ লাখ টাকা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশে আঘাত হানে গত ৩ মে। তবে এর প্রভাব ছিল ৪ মে পর্যন্ত। ফণীর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় জেলাসহ প্রায় সারাদেশে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। ঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এমএইচএম/আরএস/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :