শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৯

শ্রেণিকক্ষ সংকটে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মির্জাপুর কে সি উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ সমস্যা নিরসনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৬৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। বর্তমানে বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৮৮ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১৮৫ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ২০৩ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১১জন এবং চারজন কর্মচারী রয়েছেন।

বিদ্যালয়টিতে একটি দ্বিতীয় তলা ভবনের মোট কক্ষ ৯টি। এর মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ৫টি, কম্পিউটার ল্যাব ১টি, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ১টি, সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ ১টি, ছাত্রীদের কমন রুম আংশিক ও লাইব্রেরি ১টি। ২০১৬ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় চারজন ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় দুইজন এবং ২০১৭ সালে জেএসসিতে দুইজন এ বিদ্যালয় থেকে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। শীত মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সময় প্রচণ্ড রোদের তাপে এবং হঠাৎ বৃষ্টি এলে বাহিরে আর ক্লাস করা সম্ভব হয় না। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ এবং ইসলাম শিক্ষা ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়গুলো যখন আলাদাভাবে পাঠদান করানোর দরকার হয় তখন আর শ্রেণিকক্ষ পাওয়া যায় না। । ফলে বেশির ভাগ সময় খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা মাঠে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হয়।

আবার কখনো প্রধান শিক্ষকের অফিসে ও কমন রুমেও পাঠদান করতে হয়। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ জন হওয়ায় একই বেঞ্চে ৬-৭ জন করে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে পেছনে থাকা ছাত্ররা ক্লাসের পড়া বুঝতে পারে না। শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের যেমন পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।

Naogaon-School

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টি নওগাঁ-বদলগাছী প্রধান সড়ক সংলগ্ন। গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন ইংরেজি শিক্ষক এসএম আতিকুজ্জামান রাজু। পাঠদানের সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি এলাকার ঐতিহ্যবাহী। এখন শীতের দিনে বাহিরে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু গ্রীষ্মের সময় প্রচণ্ড গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টি এলে বাহিরে পাঠদান করানো সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ এবং ইসলাম শিক্ষা ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়গুলোকে যখন আলাদাভাবে পাঠদান করানোর দরকার হয়, তখন তা কক্ষ পাওয়া যায় না।

দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন, জাকিয়া সুলতানা ও শ্রাবন কুমারসহ কয়েকজন বলে, আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে মাঠে ক্লাস করতে হয়। শীতের সময় মাঠে ক্লাস করা সম্ভব হলেও গরমের সময় রোদের তাপে সম্ভব হয় না। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে আর ক্লাস করা হয় না। এছাড়া বিদ্যালয়টি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় ট্রাক ও বাসের হর্নের শব্দে ক্লাসে মনোযোগ আসে না। কিছুদিন পর আমরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাব, কিন্তু পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের যেন আর মাঠে ক্লাস করতে না হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে আমার অফিসেও পাঠদান করতে হয়। একদিকে যেমন পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে। এ বিষয়গুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদারকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। সমস্যাটি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম আলী বেগ বলেন, বিষয়টি অবগত আছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবার একটা দরখাস্ত দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে।

আব্বাস আলী/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]