আন্দোলনরত শিক্ষকদের বাদ রেখেই প্রাথমিক সমাপনীর চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৯

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে প্রাথমিকের শিক্ষকদের পরিবর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয়-মাদরাসা শিক্ষক ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির মুখে এ পরীক্ষা আয়োজন অনিশ্চিত হওয়ায় এমন নিদের্শনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।

গতকাল মঙ্গলবার ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাবের হোসেন সাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৭ নভেম্বর সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৭ হাজার ৪৫৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৩১টি ও ৩ হাজার ৫২৭টি মাদরায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ডিপিই থেকে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কেন্দ্র নির্বাচন কাজ শেষ হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেন্দ্র সচিব অথবা ইনভিজিলেটরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রয়োজনে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অথবা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বা সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব প্রদান করে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্নের বিকল্প প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন না করা হলে এ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শুধু তাই নয়, ক্লাস বর্জন করে ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে লাগাতার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। তাদের এমন অবস্থানে যথাসময়ে সমাপনী পরীক্ষা আয়োজন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প পন্থায় পরীক্ষা সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিই।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গত ২৩ অক্টোবর শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে মহাসমাবেশে যোগ দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে ৩০ শিক্ষক আহত হন বলে দাবি করেন শিক্ষক নেতারা। তাদের মধ্যে এখনও দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এমএইচএম/জেএইচ/জেআইএম