‘আমি জানি আমি অনেক বড় পাপ করেছি’

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নানা সংবাদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন নির্মাতা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘ফ্রেমিং’ বলে দাবি করেছেন তিনি। এসময় তিনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপকর্ম নিয়ে ডকুমেন্টারি সিরিজ এবং জুলাই যাদুঘর করার চেষ্টা করে অনেক বড় পাপ করেছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্ট্যাটাসে ফারুকী বলেন, কিছুদিন আগে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ‘পতিত শক্তির প্রতি অনুগত’ একটি গ্রুপ কয়েকজন সাংবাদিককে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য সরবরাহ করেছে। তার ভাষায়, এগুলো মূলত রিপোর্ট নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ঘিরে ফ্রেমিং করার চেষ্টা।

ফারুকীর দাবি, তার বিরুদ্ধে ১১০ কোটি টাকা লোপাট, ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ নানা অভিযোগ আনা হচ্ছে, অথচ এসব অভিযোগের কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তিনি বলেন, এখন যেন কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সংবাদ তৈরি করা হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে তাকে বেনামি প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে ফারুকী জানান, অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের বাছাই কমিটি ও জাতীয় কমিটি কাজ করে। পরে সচিবের মাধ্যমে ফাইল মন্ত্রীর কাছে যায় এবং মন্ত্রী কেবল অনুমোদন দেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত করা মন্ত্রীর পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–এর বোর্ড চেয়ারম্যান ইফতেখারুজ্জামান–এর মন্তব্য প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, অনেক বোর্ডেই মন্ত্রী পদাধিকার বলে সভাপতি থাকেন। যেমন শিল্পকলা একাডেমি বা শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমন বিধান রয়েছে।

তবে জুলাই জাদুঘরের ক্ষেত্রে তিনি পদাধিকার বলে সভাপতি নন বলেও দাবি করেন ফারুকী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাদুঘরের কিউরেটরিয়াল ডিরেক্টর ও পরিকল্পনা প্রধান হিসেবে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে জাদুঘর চালু হওয়া পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকার সিদ্ধান্ত হয়।

১১০ কোটি টাকার টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই টেন্ডার তার মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। ডকুমেন্টারি নির্মাণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ কর্মসূচির জন্য স্বল্প সময় থাকায় বিশেষ বিধি অনুসরণ করে ডিপিএম পদ্ধতিতে কয়েকজন তরুণ নির্মাতাকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব ডকুমেন্টারির দর্শকপ্রতিক্রিয়া ইতিবাচক এবং প্রধান উপদেষ্টার পেজেই তাদের তৈরি কনটেন্টের ভিউ ১০০ মিলিয়নের বেশি হয়েছে।

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের জবাবে ফারুকী জানান, এখনো কোনো নিয়োগই হয়নি। তবে জুলাই জাদুঘর অধ্যাদেশে বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়োগের বিধান শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

স্ট্যাটাসের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি অনেক বড় পাপ করেছি হাসিনার অপকর্ম নিয়ে ডকুমেন্টারি সিরিজ এবং জুলাই যাদুঘর করার মাধ্যমে। তারপরও আমি জুলাই শহীদ ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ ইতিহাসে তুলে ধরতে চাই।’

একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে এর পর আর কোনো জবাব দেবেন না এবং দ্রুতই জুলাই জাদুঘর চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।