অভিনয়ের বাইরে নেতা হিসেবেও সফল যেসব চলচ্চিত্র তারকা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
অভিনেতার বাইরে নেতা হিসেবেও সফল যেসব চলচ্চিত্র তারকা

চলচ্চিত্রের তারকারা শুধু জনপ্রিয়তা নিয়ে অভিনয়ই করেন না, তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা নেতৃত্বেও দারুণ পারদর্শি। বছরের পর বছর তারা নেতৃত্বগুণে বিকশিত করেছেন চলচ্চিত্রের আঙ্গিনা। বিশেষ করে প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতিতে বেশ ক’জন তারকাদের পদচারণা সাফল্যে মুড়ানো। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রয়াত নায়ক রাজ রাজ্জাক, ‘মিয়া ভাই’খ্যাত ফারুক ও ড্যাশিং হিরো হিসেবে সমাদৃত মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

এ তালিকায় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয় প্রয়াত অভিনেতা খলিলকে। দীর্ঘদিন তিনি চলচ্চিত্র শিল্পীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আরও আছেন অভিনেতা আহমেদ শরীফ, মাহমুদ কলি, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাকিব খান ও ডিপজল।

স্বাধীন বাংলাদেশে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে যেম চলচ্চিত্রকে তুলে ধরেছেন দেশবাসীর কাছে তেমনি রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, খলিল, আহমেদ শরীফ, মাহমুদি কলিরা শক্ত হাতে সামাল দিয়েছেন চলচ্চিত্রের নানা ঝক্কি ঝামেলা। কখনো সরাসরি পদে থেকে কখনো বা ছায়া হয়ে অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছেন বাংলাদেশের সিনেমার প্রিয় আঙিনাকে।


আমৃত্যু অভিভাবকের মতো চলচ্চিত্রের মানুষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন নায়ক ফারুক ও রাজ রাজ্জাক

ঢালিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক খান আতাউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি (BFPDA) প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ খাতকে সমর্থন করা ও সংগঠিত করা। এরপর ১৯৭৫-১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতি। এটি মূলত চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও বিতরণের সাথে জড়িত বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গঠিত হয়েছিলো। ১৯৯৭ সালে এই দুটি সংস্থার একীভূত হওয়ার ফলে চলচ্চিত্র শিল্পে অর্থায়নকারী (প্রযোজক) এবং হলগুলোতে ছবি বিতরণকারী (পরিবেশক) উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। এর নাম হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি।


বাংলাদেশের সিনেমার সব্যসাচী খান আতাউর রহমান গড়ে তুলেছিলেন প্রযোজক সমিতি

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই সংগঠনটিতে চলচ্চিত্র তারকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। এর অভিভাবক হিসেবে নায়ক রাজ্জাক ও ফারুক সমাদৃত ছিলেন। কয়েকবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সোহেল রানাও। অভিনেতা ডিপজলও এই সমিতিতে শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন।

চলচ্চিত্র পরিচালকদের নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ১৯৮১ সালে ২৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জনাব আলমগীর কুমকুম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আজাদ হোসেন। এখানেও তারকাদের মধ্যে নায়ক রাজ্জাক ও ফারুক ভালো ভূমিকা পালন করেছেন। আর সমিতির সভাপতি হিসেবে ‌১৯৮৮৭-৮৮ ও ১৯৮৮-৮৯ সালে দুই মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনেতা সোহেল রানা।


চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সমিতিই পেয়েছে ডিপজলের নেতৃত্ব

তবে তারকাদের নেতৃত্বের সবচেয়ে বিকাশ ঘটেছে শিল্পী সমিতিতে। চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। প্রথমবার সমিতির সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাক। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বরেণ্য অভিনেতা আহমেদ শরীফ।

এরপর ৪২ বছরের ইতিহাসে ১৮টি মেয়াদে ৯ জন অভিনেতা সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। রাজ্জাকের পর পর্যায়ক্রমে সভাপতি হন খলিল উল্যাহ খান টানা দুবার, আহমেদ শরীফ টানা দুবারসহ মোট চারবার, আলমগীর, মাহমুদ কলি টানা দুবার, মিজু আহমেদ টানা দুবার, শাকিব খান টানা দুবার। টানা দুবারসহ তিনবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মিশা সওদাগর। তিনি বর্তমানেও সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে দুবার করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মিজু আহমেদ

এই সমিতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে সফল আহমেদ শরীফ। প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই পদে ছিলেন। এরপর মাহমুদ কলি, মিজু আহমেদ, ডিপজল ও জায়েদ খান দুবার করে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। একবার করে মাহবুব খান গুই, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, মিশা সওদাগর, অমিত হাসান, রুবেল দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২-২৪ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হয়ে প্রথমবার শিল্পী সমিতিকে নারী নেতৃত্ব উপহার দেন অভিনেত্রী নিপুণ।


শিল্পী সমিতির প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী নিপুণ

শিল্পী সমিতির ইতিহাস ঘাঁটলে সবচেয়ে সফল নেতা হিসেবে পাওয়া যায় আহমেদ শরীফকে। চলচ্চিত্রের শক্তিমান এই খল অভিনেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশিবার দায়িত্ব পালন করেছেন। তারমধ্যে আহমেদ শরীফ চারবার সভাপতি ও তিনবার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

এফডিসিতে আবারও নির্বাচনী হাওয়া বইছে। দীর্ঘ ৭ বছর পর নির্বাচন প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির। কোরবানি ঈদের পরই হবে এই সমিতির নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াই। এরপর অপেক্ষমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। চলছে প্রস্তুতির তোরজোড়।

 

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।