চ্যাটজিপিটি যেসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি টুল। পড়াশোনা, লেখা, প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে এটি মানুষের সহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিল এমন খবর সামনে আসার পর অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে: আসলে চ্যাটজিপিটি কী কী বিষয়ে সাহায্য করে না? এর সীমাবদ্ধতা কোথায়?
জেনে নিন চ্যাটজিপিটিকে কোন ধরনের প্রশ্ন করা যায় না এবং কেন-
অপরাধ ও সহিংসতা সংক্রান্ত প্রশ্ন
চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতা এখানেই। যেসব তথ্য সরাসরি মানুষের ক্ষতি করতে পারে এমন ধরনের প্রশ্নে চ্যাটজিপিটি সাধারণত উত্তর দিতে অস্বীকার করে। যেমন-
- কীভাবে কাউকে আঘাত বা হত্যা করা যায়
- লাশ গোপন করা বা প্রমাণ নষ্ট করার উপায়
- চুরি, ডাকাতি বা প্রতারণার কৌশল
- বোমা বা অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি
বিপজ্জনক বা ক্ষতিকর কাজের নির্দেশনা
শুধু অপরাধ নয়, এমন কিছু কাজও আছে যা ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোতেও চ্যাটজিপিটি সতর্ক থাকে। তবে এ ধরনের প্রশ্নে সাধারণত তথ্য না দিয়ে বরং সতর্কতা বা বিকল্প পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন:
- আত্মহানির পদ্ধতি
- বিষ তৈরি বা বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহার
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা
ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য
চ্যাটজিপিটি কোনো ব্যক্তির গোপন তথ্য শেয়ার করে না। এগুলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে পড়ে। যেমন-
- কারো ফোন নম্বর, ঠিকানা
- ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য
- ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড বা অ্যাকাউন্ট তথ্য
ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট
চ্যাটজিপিটি এমন কিছু তৈরি করতে সাহায্য করে না যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। যেমন-
- ভুয়া খবর বানানো
- কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি
- ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া
রাজনৈতিক প্রভাব বা অপব্যবহার
কিছু ক্ষেত্রে এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কাজ থেকেও বিরত থাকে। যেমন-
- নির্দিষ্ট ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল
- প্রচারণামূলক বিভ্রান্তিকর বার্তা তৈরি
কেন এই সীমাবদ্ধতা?
অনেকে মনে করেন চ্যাটজিপিটি সব প্রশ্নের উত্তর দেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কারণ, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ করা, ভুল তথ্য ছড়ানো ঠেকানো, নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা
তাহলে বিতর্ক কেন?
সাম্প্রতিক ঘটনায় অনেকেই ভাবছেন চ্যাটজিপিটি কি অপরাধে সাহায্য করেছে? বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে-
- ব্যবহারকারী ঘুরিয়ে প্রশ্ন করেছে
- সাধারণ তথ্য নিয়ে অপব্যবহার করেছে
- সংবাদে বিষয়টি সরলভাবে তুলে ধরা হয়নি
অর্থাৎ, চ্যাটজিপিটি সরাসরি অপরাধ শেখায় না, কিন্তু ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে কেউ যদি তথ্যকে ভুলভাবে ব্যবহার করে তাতে এআইকে দায়ী করা যৌক্তিক হবে কি না তাও প্রশ্ন। চ্যাটজিপিটি একটি টুল এটি নিজে সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং ব্যবহারকারীর ইনপুট অনুযায়ী কাজ করে। তাই চ্যাটজিপিটি বা যে কোনো এআই টুল ব্যবহারে নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি সন্তান এবং সঙ্গীর বেলাও আপনাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এতে এআই থেকে কোনো অপরাধমূলক কাজের জন্য পরামর্শ চাইতে পারবেন না কেউ।
সূত্র: মিডিয়াম, চ্যাটজিপিটি পলিসি
কেএসকে