স্বীকৃতি পেলো চন্দ্রমুখী


প্রকাশিত: ০২:৫২ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৫

বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন প্রয়াত চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। তার পরিচালনায় দেবদাস ছবিতে চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিলেন জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী।

আজ মঙ্গলবার ১০ মার্চ ঘোষণা করা হয়েছে করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩’-এর বিজয়ীদের নাম। সেই তালিকা থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মৌসুমী। অবশ্য তার সাথে যৌথভাবে এই পুরস্কারের অংশীদার শর্মিমালা। তিনি মৃত্তিকা মায়া ছবির জন্য এই পুরস্কার লাভ করতে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলা সাহিত্যে দারুণ জনপ্রিয় উপন্যাস শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাষায় এই সাহিত্যটি রুপালী পর্দার সেলুলয়েডে বন্দী হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে বুলবুল আহমেদ, কবরী ও আনোয়ারাকে নিয়ে প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’। সেই সময়ে এই ছবিটি দারুণভাবে গ্রহণ করে দর্শক। সেই সাফল্যে অনুপ্রাণীত হয়ে চাষী নজরুল ২০১৩ সালে ছবিটিকে আবারো ‘রিমেক’ করেন শাকিব খান, মৌসুমী ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে। সেই বছরের ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন চেয়ে জুড়ি বোর্ডে জমা পড়ে ছবিটি। বোর্ডের বিচারকদের রায়ে ছবিটিতে চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেলেন মৌসুমী। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করলেন তিনি। প্রিয় এই অভিনেত্রীকে অভিনন্দন।

এক পলকে মৌসুমী

১৯৭৩ সালের ১১ নভেম্বর খুলনায় তার জন্ম। মৌসুমী ছোটবেলা থেকেই একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন, যার উপর ভিত্তি করে তিনি ১৯৯০ সালে টেলিভিশনের বাণিজ্যিকধারার বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হন।

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ’র বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে মৌসুমী’র বাংলা চলচ্চিত্রে আগমন। এখন পর্যন্ত তিনি ১৫০টির ও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মেঘলা আকাশ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০০২ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পান।

২০০৩ সালের চলচ্চিত্র ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ পরিচালনার মাধ্যমে একজন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

মৌসুমী ১৯৯৬ সালের ২ আগষ্ট তারিখে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ফারদিন এহসান স্বাধীন (ছেলে) এবং ফাইনা (মেয়ে) নামের ২টি সন্তান রয়েছে।

মৌসুমী নিজের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ দেখাশুনা করে থাকেন। এছাড়াও তিনি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসাবে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের একটি পোশাক স্টল ‘লেভিস’ এর মালিকানার দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি ইউনিসেফ অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব পান।

এলএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।