রবীন্দ্রনাথের গান বাঙালির প্রাণের খোরাক


প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ১৬ মে ২০১৫

রবীন্দ্রনাথের গানে তিনি নিজের প্রাণের মুক্তি খুঁজেন। সন্ধান করেন সুরে সুরে ভালোবাসার আশ্রয়। রবি ঠাকুরের গানে আমাদের দেশে যে কয়জন সঙ্গীত শিল্পী সমাদৃত হয়েছেন তাদের মধ্যে অণিমা রায় নামটি উজ্জ্বল। তিনি এ প্রজন্মের গায়িকা। রবি ঠাকুরের চিরায়ত গানগুলোকে তিনি নতুন করে ধারণ করেন নিজের কণ্ঠে এ প্রজন্মের শ্রোতাদের জন্যই। তার কিন্নরী সুর ব্যঞ্জনা আর গায়কীর স্বকীয়তার জোরে শ্রোতাদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। গান গাওয়ার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করছেন রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর। সম্প্রতি কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশ পেয়েছে রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে অনিমা রায়ের নতুন একক অ্যালবাম ‘তোমার বিরহে’। নানা কথায় এই শিল্পী জানালেন তার নতুন অ্যালবামের ভাবনা ও গান নিয়ে। লিখেছেন লিমন আহমেদ

অনেক কিছুই তো মানবমনকে প্রভাবিত করে। সবকিছু রেখে গানকেই কেন বেছে নিলেন?
ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। ক্যাসেট প্লেয়ারে গান বাজলেই শত চেষ্টা করেও আমাকে আর ওঠানো যেত না। আর গানের প্রতি এই ঝোঁক মেজ কাকা বিমল রায়ের কারণেই। প্রচুর গান শুনতেন তিনি। এ সুবাদেই ছোটবেলা থেকে অসংখ্য গান শোনার সুযোগ হয় এবং গানের প্রতি আমার আগ্রহ বাড়ে। কেবলই যে গান শুনতাম তাই না, যে কোনো গান শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের লেখার খাতার পেছনে গানটি লিখে ফেলতাম। পরবর্তী সময়ে সেই লেখা গান নিজে নিজে গাওয়ার চেষ্টা করতাম। প্রথমে মার খাওয়ার ভয়ে লুকিয়েই করতাম। কিন্তু ধরা পড়ার পর ব্যাপরটা দাড়াল উল্টো। সবাই গানের প্রতি আমার ভালোবাসাকে গ্রহণ করলো। সেইসাথে আমার গানের গলারও প্রশংসা করলো। আমিও সাহসী হয়ে উঠলাম গান করব ভেবে।

আপনার প্রথম অ্যালবাম কবে প্রকাশ পায় এবং সর্বমোট কয়টি অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে?
সংগীত এমন একটা জিনিস যা নিজের ভেতর কুক্ষিগত করে রাখা যায় না। গান নিয়ে শ্রোতাদের কাছে আসতে হয়, নিজেকে মূল্যায়ন করতে হয়। তাছাড়া শিল্পী হওয়ার বাসনা আমার ছোটবেলা থেকেই। এ লক্ষেই অ্যালবাম প্রকাশ করা। আর বরাবরের ভালোলাগা রবীন্দ্রনাথই আমার প্রচার ও প্রতিষ্ঠার আশ্রয়। কলকাতার রাগা মিউজিক থেকে ২০০৮ সালে ‘অচেনা পরদেশী’ নামে আমার প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশ হয়। তারপর বাংলাদেশের লেজারভিশন থেকে ২০০৯ সালে প্রকাশ পায় ‘কোথা যাও’ শিরোনামে অ্যালবামটি। প্রথম অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের কাছে সাড়া পেলেও দ্বিতীয় অ্যালবামটি আমাকে নিয়মিত গান করার অনুুপ্রেরণা দেয়। সে থেকেই  ২০১০ সালে এসে ‘রবীন্দ্র ভাবনায় নারী’ এই চেতনায় একটি অ্যালবাম করি। লেজারভিশন থেকে প্রকাশ হওয়া এই অ্যালবামের নাম ছিলো ‘আমি চিত্রাঙ্গদা’। এরপর ২০১২ সালে প্রকাশ পায় ‘ইচ্ছেমতি’ অ্যালবাম। এটিও বাজারে এসছিলো লেজারভিশন। তারপর আসে ‘রবির আলো’; ইমপ্রেস অডিও ভিশনের ব্যানারে। সর্বশেষ নিয়ে এসেছি তোমার বিরহে। এটি রবীন্দ্রগানে আমার ষষ্ঠ একক অ্যালবাম।

তোমার বিরহে অ্যালবাম সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন?
এর আগের অ্যালবামগুলোতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রে এক একটি আলাদা থিম নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে কাজ করতে গিয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত গানগুলো আমার কন্ঠে ধারণ করা হয়নি। সেই ভেবেই এবারের অ্যালবামটিতে রবীন্দ্রনাথের বহুল প্রচলিত গান গেয়েছি। সব শ্রেণীর শ্রোতার কথা চিন্তা করে গান বাছাইয়ের চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে তার চিরায়ত ঢং কিন্তু আধুনিক আঙ্গিকে পৌঁছে দেয়া আমার এই অ্যালবামের লক্ষ্য।’

অ্যালবামে কয়টি গান থাকছে?
মোট ১৩টি গান নিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের অ্যালবামটি। গানগুলো হলো- ‘এরা সুখের লাগি’, ‘আমার পরাণ যাহা চায়’, ‘অলি বার বার ফিরে যায়’, ‘তুমি কোন কাননের ফুল’, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ ইত্যাদি। সবক’টি গানের সংগীতায়োজন করেছেন কলকাতার প্রত্যুষ বন্দোপাধ্যায়।

রবীন্দ্র সঙ্গীতে আপনার বিশেষ দুর্বলতার কারণ?
আগেই বলেছি, আমি গান ভালোবাসি। শুনতে এবং গাইতে। সে যেমন গানই হোক। আমি নজরুলের গানেরও অনুরাগী। নজরুল সঙ্গীতে তালিমও নিয়েছি। তবে কেন জানিনা সেই ছোটবেলা থেকেই রবি ঠাকুরের গানে নিজের আশ্রয় খুঁজে পাই। দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, রবি ঠাকুরের গানে সবাই কী দারুণ প্রাণ খুঁজে পায়। মনে হয় এ গানেই বাঙালির অন্তরাত্মার খোরাক রয়েছে বুঝি। নিজেকে কবিগুরুর সংগীতের সাধনায় নিমগ্ন রাখতেই ভালো লাগে। আমার ভোর, সকাল, দুপুর, বিকাল, গোধুলী, সন্ধ্যা, রাত এবং মধ্যরাত-সবখানেই রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন তার ঐশর্যের সুর-বাণী ছড়িয়ে। বলা চলে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরেই সাজিয়ে রেখেছি অপূর্ব এ জীবন আমার।

ভবিষ্যতে নিজেকে কিভাবে দেখতে চান?
আপাতত আমার ভবিষ্যত নতুন অ্যালবামের সফলতায়। অ্যালবামটি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী আমি। এ পর্যন্ত অনেক রেসপন্স পেয়েছি। আর ব্যাক্তিগত সন্তুষ্টিও এসেছে এই অ্যালবাম থেকে। এছাড়া ২০০৫ সাল থেকে ধানমন্ডিতে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সুর বিহার সঙ্গীত আকাশ শেখার পাঠশালা’য় শিার্থীদের গান শিখিয়ে থাকি। পরে বনানীতে আরো একটি শাখা খুলেছি। কোমলমতি সব বাচ্চাদের সাথে, তাদের মিষ্টি কণ্ঠে রবি ঠাকুরের সুরের মূর্ছনায় দারুণ কেটে যায় আমার সময়গুলো। এই পাঠশালাটি নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। পাশাপাশি শিক্ষকতাও বেশ উপভোগ করছি। নিজেকে আমি অনেক বিশ্বাস করি। আমি জানি আমার পক্ষে কি করা সম্ভব। আমার যোগ্যতা, ক্ষমতা এবং সফলতার হাতছানি নিয়ে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সত্যিকার অর্থে আমি জীবনের তাগিদে চলছি। জানি না ভবিষ্যতে কি হবে।

এলএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।