সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে সরকার বদ্ধপরিকর : নূর
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে সরকার দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বেগম মাহজাবিন খালেদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধে লোক সংস্কৃতিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর নিয়মিতভাবে লোক সঙ্গীত উৎসব, লোক নৃত্যানুষ্ঠান, লোক নাট্যানুষ্ঠান, যাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির সুস্পষ্ট চেতনা উন্মোচিত হয়।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতির উল্লখযোগ্য বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ করে যার মধ্যে ‘কিশোরগঞ্জের কবিগান ও কবিয়াল’ ভাওয়াইয়া শিল্পী মহেশ চন্দ্র রায় : জীবন ও গান’ ‘বাংলার লোকসঙ্গীত : ভাটিয়ালী গান’ ‘বাংলা লোকসঙ্গীত : ভাওয়াইয়া’ উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরো বলেন, লোকসঙ্গীত শিল্পী মরমী কবি হাছন রাজার জীবন, সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীতসহ সামগ্রিক অবদান, বাণী, সুর ও রচনাবলী সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা প্রকাশনা, প্রচার ও সামগ্রিক মরমী গানের চর্চা করার জন্য হাছন রাজা একাডেমী স্থাপন শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধের লক্ষ্যে ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ব্যবস্থাপনায় দেশের ৬৪টি জেলায় সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন, দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় বর্ষ বিদায়, নববর্ষ উৎসব, নবান্ন উৎসব, পৌষমেলা, বসন্তবরণ উৎসব উদযাপন, দেশের ৪৮৬টি উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিভিন্ন নাট্য দলের মাধ্যমে উন্মুক্ত নাটক, নৃত্য ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং সারা দেশে উন্মুক্ত যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
এইচএস/এএইচ/পিআর