নায়করাজের চোখে সেরা নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন : শফি বিক্রমপুরী

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের আসমানে মিটমিট করে জ্বলে উঠেছিলো একমুঠো আলো। সময়ের পরিক্রমায় জানা গেল, সেই আলো ছিলো উজ্জ্বল এক নক্ষত্র থেকে ছুটে আসা। যে নক্ষত্রের নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। ওইদিন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এই অভিনেতা। আর ওই বছরেরই ৩১ ডিসেম্বর ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় তার। বিপরীতে ছিলেন তখনকার মোস্ট গ্ল্যামারাস নায়িকা ববিতা।

১৯৭৭ থেকে ২০১৭। গেল বছরের ৩১ ডিসেম্বর ৪০ বছরে পা রাখলো ইলিয়াস কাঞ্চনের চলচ্চিত্র জীবন। দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে একটি মিলনমেলার আয়োজন করেছিলেন এই নায়ক। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে গতকাল ১ জানুয়ারি সন্ধ্যার সেই আয়োজনে তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের নানা প্রজন্মের মানুষেরা। সবাই ইলিয়াস কাঞ্চনকে চলচ্চিত্রের চল্লিশ বছরে অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্মৃতিচারণ করেছেন তার সঙ্গে কাজ করার ফেলে আসা দিনরাত্রির ডায়েরি খুলে।

তাদের ভিড়ে ছিলেন বরেণ্য প্রযোজক, প্রদর্শক ও পরিচালক শফি বিক্রমপুরী। তিনি তার স্মৃতিচারণে বলেন, ‘একজন ইলিয়াস কাঞ্চন ইন্ডাস্ট্রির সমার্থক হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছরে ইলিয়াস কাঞ্চন এই ইন্ডাস্ট্রিকে যা দিয়েছেন সে কথা বলে যেমন শেষ হবে না, তার ঋণও শেষ হবে না। কাঞ্চন ছিলেন নায়করাজ পরবর্তী সবচেয়ে জনপ্রিয় নয়ক এবং বড় সুপারস্টার। পরপর দুটি ফ্লপ ছবি দিয়ে শুরু করা কাঞ্চনকে নায়করাজ নিজে তার পরবর্তী সেরা নায়ক বলে মানতেন। তিনি কথায় কথায় বলেছিলেন, ‘আমার পর যদি দেশের মানুষ আর কোনো নায়কের কথা চিরকাল মনে রাখে সেটা ইলিয়াস কাঞ্চন। সে সৌভাগ্যবান, পরিশ্রমী এবং সৎ মানুষ। চলচ্চিত্রে কাঞ্চনকে আমি সততার দৃষ্টান্ত হিসেবে জানি।’ নায়করাজের মুখে এই কথার ওজন অনেক। আমিও কাঞ্চনের মতো সৎ মানুষ খুব বেশি দেখিনি চলচ্চিত্রে।’

এই পরিচালক আরও বলেন, ‘নায়করাজের পরে সেরা যুগ ছিলো কাঞ্চন যুগ। তখন সিনেমা বলতেই কাঞ্চন। সব নায়িকারা চাইতো তার নায়িকা হতে। প্রযোজকেরা তাকে সিনেমায় নিতেন ছবি সুপারহিট হবে ভেবে, ব্যবসা করবে ভেবে নয়। কারণ কাঞ্চনের ছবি মানেই হিট। রোমান্টিক, অ্যাকশন, ফোক- সবধরনের ছবিতে ভার্সেটাইল এক অভিনেতার নাম কাঞ্চন। এত ব্যস্ততার মধ্যে কোনোদিন সে শিডিউল ফাঁসায়নি। কোনো নির্মাতা-প্রযোজক কাঞ্চনকে অমনযোগী বা অসহযোগী বলতে পারবে না। ক্যামেরার সামনের কাঞ্চন অনন্য একজন। পেছনে সে অনেক রাশভারী। এজন্য তার সঙ্গে খুব একটা মাখামাখি কারোর নেই। সে নিজের মতো থাকতে পছন্দ করে। কম কথা বলে। আজ কতো কথা, কতো স্মৃতি তাকে নিয়ে মনে পড়ে। সেইসব ভাবলে চোখে জল আসবে। পুরনো দিনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করবে। আমি মনে করি না তার দেয়ার সামর্থ্য ফুরিয়ে গেছে। এই প্রজন্মের নির্মাতাদের দুর্ভাগ্য তারা এমন অভিনেতাকে কাজে লাগাতে পারছে না।’

ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রথম স্ত্রী জাহানারা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তারপর থেকেই নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে সামাজিক আন্দোলন করে আসছেন এই অভিনেতা। তার সেই আন্দোলনটি রুপ দিয়েছেন তিনি সাংগঠনিকভাবে। এই আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্য ইলিয়ান কাঞ্চনের প্রতি ধন্যবাদ এবং তাকে অভিনন্দিত করেন শফি বিক্রমপুরী।

‘রাজ দুলারী’ সিনেমার এই পরিচালক আরও বলেন, ‘কাঞ্চনকে ধন্যবাদ তার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনেকদিন পর আমাদের অনেক পুরনো বন্ধুরা একত্র হলাম। আমারও আগামী ১৮ জানুয়ারী নির্মাতা হিসেবে ৩৯ বছর পূর্ণ হবে। তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমার সম্পর্ক পঞ্চাশেরও বেশি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেকেই এসেছেন আবার হারিয়েও গেছেন। আরও হয়তো আসবেন। কিন্তু ঢাকাই চলচ্চিত্রে ইলিয়াস কাঞ্চনের নাম থেকে যাবে সবার শীর্ষে; একজন আপাদমস্তক নায়ক হিসেবে, অভিনেতা হিসেবে। কাঞ্চনকে বলবো, শান্তিতে থাকো ভাই। বেঁচে থাকো অনেকদিন। আমার জন্যও দোয়া করো যেন বেঁচে থাকি। সবাইকে নিয়ে হৈ চৈ করে তোমার পঞ্চাশ বছর পূর্তির উৎসবটা করে মরতে চাই।’

চলচ্চিত্রে চল্লিশ বছর পূর্তিতে ইলিয়াস কাঞ্চনকে শুভেচ্ছা জানাতে আরও এসেছিলেন ফারুক, চম্পা, আহমেদ শরীফ, জাভেদ, কাজী হায়াৎ, মুশফিকুর রহমান গুলজার, সোহানুর রহমান সোহান, শাবনাজ, আমিন খান, শাবনূর, পপি, মিশা সওদাগর, জায়েদ খান, ফেরদৌস, পূর্ণিমাসহ ইলিয়াস কাঞ্চনের চলচ্চিত্র জীবনের প্রযোজক ও নির্মাতারা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার আশুতিয়া পাড়া গ্রামে জন্ম ইলিয়াস কাঞ্চন। শৈশবেই চলে আসেন ঢাকায়। স্কুল জীবনেই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। যোগ দেন থিয়েটারেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই চলচ্চিত্রে ডাক পান। সুভাষ দত্তের ‌‘বসুন্ধরা’ দিয়ে অভিষিক্ত হওয়া চিরসবুজ এই নায়ক প্রায় ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

প্রযোজক হিসেবেও সফল ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আর ‘বা আমার বাবা’ এবং ‘মায়ের স্বপ্ন’ নামে দুটি ছবি পরিচালনাও করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
এলএ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :