প্রসঙ্গ নোলক : ‘ভিডিও দেখলেই প্রমাণ হবে কে পরিচালক কে প্রতারক’

মাসুম আওয়াল
মাসুম আওয়াল মাসুম আওয়াল , স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ০৩ মে ২০১৯

দুই বছর আগে জমকালো আয়োজনে ঢাকার একটি হোটেলে ‘নোলক’ সিনেমার মহরত হয়। সেখানে আয়োজন করে ঘোষণা দেয়া হয় ছবিটি পরিচালনা করবেন রাশেদ রাহা। এরপর টানা ২৮ দিন ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। শুটিং শেষে ইউনিট নিয়ে দেশে ফেরার পর পরিচালকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় প্রযোজক সাকিব সনেট। এরই জেরে পরের লট থেকে প্রযোজক তার ছবির পরিচালক রাশেদ রাহাকে ছাড়াই শুটিং শুরু করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে অনেক সময় পার হয়। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়। এতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, ববি, মৌসুমী, ওমর সানী, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, রেবেকা, ভারতের রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, অমিতাভ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এক বছর ধরে ‘নোলক’ সিনেমার পরিচালক পরিবর্তন নিয়ে জটিলতা চলছে। চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলো দফায় দফায় মিটিং করলেও এর সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। রাশেদ রাহার অভিযোগের ভিত্তিতে সেন্সরে ছবিটি আটকেও থাকে। সম্প্রতি সেন্সর পেয়েছে ছবিটি।

কিন্তু পরিচালকের স্থানে দেখা যাচ্ছে প্রযোজকের নাম। এ নিয়ে সিনেমাপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পরিচালককে বঞ্চিত করে প্রযোজকের নামে ছবি সেন্সর অনুমতি দেয়াকে সিনেমার কালো অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

রাশেদ রাহা তার প্রথম স্বপ্নের ছবিটি নির্মাণ করে হারিয়েছেন ওই ছবির নির্মাতা হিসেবে তার পরিচয়। তবে এখনো হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত নোলকের পরিচালক হিসেবে নিজের নাম ফিরে পাবেন কী রাহা? এসব বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশেদ রাহা। তুলে ধরা হলো আলাপের চুম্বকঅংশ।

জাগো নিউজ : সম্প্রতি ‘নোলক’ ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। পরিচালকের স্থানে দেখা যাচ্ছে প্রযোজকের নাম। তাহলে আপনার দাবি ভুল ছিল?
রাশেদ রাহা : না। পুরো বিষয়টি একটি নিখুঁত প্রতারণা। পরিচালক সমিতিতে এ ছবির এন্ট্রি হয়েছে আমার নামে। তথ্য মন্ত্রণালয় ওই সময় ভারতে শুটিংয়ের যে অনুমতিপত্র দিয়েছিল, সেখানেও পরিচালক হিসেবে স্পষ্টভাবে আমার নাম লেখা আছে। দেশের সমস্ত গণমাধ্যম জানে- এ ছবিটি আমি বানিয়েছি।

অথচ এফডিসি আমাকে বাদ দিয়ে পরিচালকের জায়গায় প্রযোজকের নাম বসিয়ে কীভাবে এবং কোন আইনের বলে ছাড়পত্র দিলো; আর কীভাবে সেন্সর বোর্ড সার্টিফিকেট ইস্যু করলো, সেটা তারাই ভালো জানে।

আমি বলবো এটি প্রতারণা এবং দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। এর মধ্য শিল্প সংস্কৃতিতে একটি অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করা হলো।

জাগো নিউজ : পরিচালক সমিতিতে ও সেন্সর বোর্ডেও অভিযোগ করেছিলেন। সেন্সর বোর্ড প্রথমে আমলেও নিয়েছিল আপনার অভিযোগ, পরে কীভাবে ছাড় পেল?
রাশেদ রাহা : কীভাবে ছাড়পত্র পেলো সেটা আমারও বোধগম্য হচ্ছে না। আমি বুঝতে চেষ্টা করছি ওখানকার সিস্টেমটা আসলে কী!

সেন্সর বোর্ডে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তাদেরকে অনুরোধ করেছি- আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। কে আসল পরিচালক সেটা যাচাই করেন। পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় চিঠি গেছে সেন্সর বোর্ডে। তারা আমলেই নেয়নি। আমার ধারণা এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো শক্তিশালী চক্র আছে। যারা বাংলা চলচ্চিত্রের ভালো চায় না। শিল্পকে কলুষিত করাই, ধ্বংস করাই তাদের উদ্দেশ্য।

জাগো নিউজ : প্রযোজক সাকিব সনেটের সঙ্গে আপনা দ্বন্দ্ব লাগলো কেন? তার অভিযোগ আপনি ঠিক মতো পুরো ছবির শুটিং করেননি?
রাশেদ রাহা : নায়িকার ইন্দনে প্রযোজক এ ছবিতে ইফতেখার চৌধুরীকে অ্যাড করতে চেয়েছিল। ছবিটা যেহেতু আমি বানিয়েছি, ফলে আরেকজন পরিচালকের হস্তক্ষেপ আমি মানতে চাইনি। তখন তারা যোগসাজশে আমাকেই সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

আর অভিযোগের বিষয়ে বলবো- আমি ঠিকমতো শুটিং না করলে কীভাবে রামোজি ফিল্ম সিটিতে ছবির প্রায় নব্বই ভাগ শুটিং সম্পন্ন হলো? ওইখানে শুটিং শেষে দেশে ফেরার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রযোজক এবং নায়িকা যেসব সাক্ষাৎকার দিয়েছিলো, সেগুলো দেখলেই কিন্তু বিষয়টি খোলাসা হয়ে যাবে। তখন তাদের মুখে আমার সম্পর্কে বিস্তর প্রশংসা ছিলো।

নায়িকা এবং প্রযোজকের বক্তব্য পাল্টাতে শুরু করেছে আরও পরে, যখন দেখলো- ইফতেখার চৌধুরীর হস্তক্ষেপ আমি মানছি না। তাকে এ ছবির পরিচালকের আসনে বসাতে না পারার ব্যর্থতা থেকেই সমস্ত চক্রান্তের শুরু।

জাগো নিউজ : ভারতে ছবিটির কতো ভাগ অংশের শুটিং করেছিলেন? সেই শুটিং যে আপনি করেছেন তার কী কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ আছে আপনার কাছে?
রাশেদ রাহা : প্রথম কথা হলো কোনো পরিচালকই প্রমাণ রেখে কাজ করে না। তবে সৌভাগ্যবশত 'নোলক' ছবির যতটুকু শুটিং আমি করেছি পুরো শুটিংয়ের বিহাইন্ড দ্য সিন আমার কাছে আছে। ওটা দেখলেই প্রমাণ হয়ে যাবে কে পরিচালক আর কে প্রতারক!

তাছাড়া এ ছবির নায়ক শাকিব ভাই বরাবরই স্টেটমেন্ট দিয়ে আসছেন, নোলকের পরিচালক রাশেদ রাহা। ছবির শুটিং সম্পূর্ণ শেষ না করে সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়ার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ জানিয়েছেন। তার মতো একজন সুপারস্টারকেও উপেক্ষা করেছে প্রযোজক। অদৃশ্য ক্ষমতা অপব্যবহারের কোনো ত্রুটি রাখেনি।

জাগো নিউজ : ছবিটির সেন্সর সেন্সর ছাড় পেয়েছে, এই সংবাদ পাওয়ার পর কী সেন্সর বোর্ড ও পরিচালক সমিতির সঙ্গে কী কোনো যোগাযোগ হয়েছে?
রাশেদ রাহা : পরিচালক সমিতির সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা আমাকে বরাবরই আশ্বস্ত করছেন। তাদের প্রতি আমার আস্থা আছে। তাই সুবিচার পাওয়ার আশা এখনও ছাড়িনি।

জাগো নিউজ : নোলক ঈদে মুক্তি পাচ্ছে বলে ঘোষণা এসেছে। আপনি কী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
রাশেদ রাহা : ছবি বানালাম আমি, আর মুক্তি পাচ্ছে অন্যের নামে! এটা তো খোলাচোখে সম্পূর্ণ প্রতারণা। এফডিসির কোনো সমিতির সিদ্ধান্তই মানেনি প্রযোজক। আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সমিতির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

তবে আমি বলব ইন্ডাস্ট্রির সবাই বিষয়টি দেখছেন ও জানছেন। সবাই যদি বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন এবং এর সঠিক দিকটার পক্ষ অবলম্বন করেন তাহলেই এর সমাধান হবে। যে প্রতারণা করে একটা সিনেমা থেকে পরিচালকের নাম মুছে দেয়ার চেষ্টা চলছে সেটা সফল হলে ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যায়ের একটা বিরাট দরজা খোলে যাবে। পরবর্তীতে অন্যকেও এর জন্য ভোগান্তির শিকার হতে পারে আমার মতো।

জাগো নিউজ : সেন্সর পাওয়ার পর তো কোন ছবির মুক্তিতে আর বাধা থাকে না। আপনার কী মনে হয়, এই ছবিতে আপনার পরিচালক পদবী ফিরে পাবেন?
রাশেদ রাহা : হোঁচট না খেলে তো শিক্ষা হয় না! দীর্ঘ বছর ধরে নির্মাণের সঙ্গে আছি। অনেক সময়ে অনেক হোঁচট খেয়েছি। হোঁচট খেয়ে অনেক কিছু শিখেছি। ‘নোলক’ও আমার জীবনে বড় একটা শিক্ষা। দেশের আইন-প্রশাসন আমাকে সুবিচার পাইয়ে দেবে- এটাই এখন আমার একমাত্র আশা এবং চাওয়া।

এমএবি/এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]