মাকে নিয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া যতো গান

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ১২ মে ২০১৯

মা দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্বের প্রায় সব ভাষাতেই মাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে গান। পিছিয়ে নেই বাংলাও। প্রথমেই বলা যায় বাংলা চলচ্চিত্রের কথা। বাণিজ্যিক ধারার বাংলা ছবিতে ধনী গরীবের বৈষম্যের গল্প দেখতে দেখতে অনেকটা ক্লান্ত প্রায় দর্শক।

কিন্তু এর মাঝেও কিছু কালজয়ী বাংলা সিনেমার গান দর্শকের হৃদয় জুড়ে গেঁথে আছে। ছবির পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা শিল্পীরা অডিও আকারেও প্রকাশ করেছেন মায়ের জন্য গাওয়া গান। দেখে নেয়া যাক মায়ের জন্য গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলি-

এমন একটা মা দে না
গানটি গেয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ। নাসির আহমেদের কথা ও সুরে ‘এমন একটা মা দে না’ গানটি ১৯৭৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে প্রচার হয়।

গানটি প্রসঙ্গে ফেরদৌস ওয়াহিদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি তখন কলেজে পড়ি। প্রয়াত শিল্পী ফিরোজ সাঁই আমাকে জানান, মাকে নিয়ে একটা গান করতে হবে। গানটি আমার কণ্ঠে ভালো মানাবে। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা গীতিকার ও সুরকার নাসির আহমেদ আমাকে গানটি শোনান। খুব ভালো লেগে যায় গানটির কথা ও সুর। ফিরোজ সাঁই আমাকে বললেন, গানটি রেকর্ডিয়ের জন্য পয়সা জোগাড় করতে। রেকর্ডিংয়ের জন্য খরচ পড়বে ৩৩০ টাকা।

ছাত্র মানুষ, এতো টাকা পাই কই। টাকার অভাবে গানটি করা হচ্ছে না শুনে এগিয়ে এলো আমার চার বন্ধু সাইফ, রুমী, শামীম ও এনায়েত। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কাকরাইলের ইপসা স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করালাম। গানটির সেই গল্প মনে পড়লে আজও কান্না চলে আসে। তবে স্বস্তি পাই এই ভেবে তখন অনেক কষ্ট করে গানটি গেয়েছি বলেই হয়তো মাকে নিয়ে এমন একটি গান গাইতে পেরেছি। এটাই আমার সংগীত জীবনের বড় প্রশান্তি।’

মায়ের এক ধার দুধের দাম
গানটির শিল্পী ফকির আলমগীর। একদিন মাকে নিয়ে ফরিদপুরে যাচ্ছিলেন ফকির আলমগীর। আরিচা ঘাটে অন্ধ এক বাউল দোতারা বাজিয়ে ভাঙা গানটি গাইছিলেন। গানটির প্রথম লাইন শুনেই ফকির আলমগীরের ভাল লেগে যায়। নিজের সঙ্গে থাকা রেকর্ডারে গানটা ধারণ করে ফেলেন।

পরে গানটি নিজের মতো করে বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে গেয়ে সবার প্রশংসা পান। নব্বইয়ের দশকে অজিত রায় বিটিভির জন্য গানটি আবার রেকর্ড করেন।

মাগো মা, ওগো মা
খুরশীদ আলমের কণ্ঠে প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘সমাধি’ ছবির গান এটি। পর্দায় ‘মা গো মা’ গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। মাকে নিয়ে অসাধারণ এই গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এটি মায়ের জন্য পাগল সন্তানের আবেগ তুলে ধরা গান।

আমার স্বাদ না মিটিলো
মূলত শ্যামাসঙ্গীত হিসেবে তৈরি হলেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে গানটি মায়ের জন্য গভীর আবেগের গান। অতুল কৃষ্ণ মিত্রের লেখা এই গানটি পঞ্চাশ দশকে প্রকাশ হয় পান্নালাল ভট্টাচার্য। পরে আরও অসংখ্য শিল্পী এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে
রুমানা ইসলামের গাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় গান এটি। এই গানের কথা লিখেছেন এবং সুর করেছিলেন শিল্পীর বাবা খান আতাউর রহমান। ‘দিন যায় কথা থাকে’ অ্যালবামের এই গানটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে।

পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব মাগো
এই গান হৃদয়ে মায়ের কাছে ফেরার তীব্র আকুলতা তৈরি করে দেয়। তুুমুল জনপ্রিয় এই গানটির সুর করেছেন এবং গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার লিখেছেন কথা। ১৯৫৭ সালে উত্তম কুমার অভিনীত ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ নামের ছবিতে প্রথম ব্যবহার করা হয় এই গানটি।

মধুর আমার মায়ের হাসি
গানটির সুর করেছেন সুধীর লাল চক্রবর্তী ও কথা লিখেছেন প্রণব রায়। ‘মধুর আমার মায়ের হাসি’ গানটি বহু শিল্পী গেয়েছেন। তার মধ্যে অনুপ ঘোষালের গানটির বেশি জনপ্রিয়।

আম্মাজান
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর তুমুল জনপ্রিয় গান এটি। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ ছবিতে এই গানটি বাজারে আসে ১৯৯৯ সালে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা, সুরে ও সংগীতে গানটি সারাদেশে শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছে।

দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভধারণ
বাংলাদেশের অডিও ইন্ডাষ্ট্রিতে মাকে নিয়ে তৈরি সর্বাধিক সফল গান বলা হয় এটিকে। গানটির কথা-সুর প্রিন্স মাহমুদের। আর কণ্ঠটা দিয়েছিলেন দরাজ কণ্ঠের জেমস। ১৯৯৯ সালে ‘এখনো দুচোখে বন্যা’ শীর্ষক মিশ্র অ্যালবামে গানটি প্রকাশ পায়। তারপর রাতারাতি বাংলা ভাষার সকল শ্রোতার মনে দাগড় কাটে গানটি।

একটা চাঁদ ছাড়া রাত আঁধার কালো
কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া এই গানটির গীতিকার কবির বকুল। পিএ কাজল পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ ছবির প্লে-ব্যাকে গানটি ব্যবহার করা হয়। গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শিল্পী এবং গীতিকার। এটি একাধারে বিজ্ঞাপনচিত্র, চলচ্চিত্র ও অডিও অ্যালবামে ব্যবহার করা হয়েছে।

গানটি প্রথম বের হয় ২০০৯ সালে ওয়ারিদের (এখন এয়ারটেল) বিজ্ঞাপনচিত্রে। এরপর সিনেমার কল্যাণে গানটি আরও শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। একই বছর গানটি প্রকাশ হয় কুমার বিশ্বজিতের একক অ্যালবাম ‘রোদেলা দুপুর’-এ।

তুমি আমার আগে যেয়ো নাকো চলে
পলাশের কণ্ঠে মাকে নিয়ে এই গানটিও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গানের গল্প শোনাতে গিয়ে পলাশ জানান, বহুদিন ধরে মনে মনে ভাবছিলাম মা নিয়ে একটা গান করব। মিল্টন খন্দকার একদিন আমাকে বললেন, পলাশ তোমার জন্য ‘মা’ নিয়ে একটা গান লিখেছি। এরপর গানের কথাগুলো আমার বেশ মনে ধরল।

সুর করার দায়িত্ব দেওয়া হয় সোহেল আজিজকে। সুরারোপ শেষে গানটির রেকর্ডিং হয়েছিল তান স্টুডিওতে। গাইতে গিয়ে কেমন যেন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কথাগুলো যেন আমি আমার মাকেই বলছি। ২০০০ সালের দিকে আমার একক ‘ভুল করেছি ভালবেসে’ অ্যালবামে প্রকাশ পায় গানটি।

এছাড়াও মনির খান, এন্ড্রু কিশোরসহ অনেক শিল্পীদের কণ্ঠে মায়ের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান আছে।

এলএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।