বাবা-মাকে ছাড়া কোনো জন্মদিন হয় না : রাইসুল ইসলাম আসাদ

মাসুম আওয়াল
মাসুম আওয়াল মাসুম আওয়াল , স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৯

‘জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসার পেছনে কিন্তু আমার কোনো হাত নাই। যাদের জন্য আমার পৃথিবীতে আসা, তারা হলেন আমার বাবা-মা। যারা আমাকে জন্ম দিয়েছেন তারা দু’জনই এখন পৃথিবীতে নাই। তাদেরকে ছাড়া আবার জন্মদিন হয় নাকি! বাবা-মাকে কোনো জন্মদিন হয় না!’

ছেলে-মেয়েরা জন্মদিনে এভাবেই বুঝি বাবা-মাকে মিস করেন! আবেগে সুরেই কথাগুলো বলছিলেন দেশের অন্যতম অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ। আজ (১৫ জুলাই) তার জন্মদিন। ৬৭ বছরে পা রাখলেন তিনি। গুণী এই অভিনেতার জন্ম ১৯৫২ সালের ১৫ জুলাই, ঢাকায়। ছিলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র।

১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে মুক্তিকামী বীরসেনানীদের সঙ্গে তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। দেখতে দেখতে জীবনের অনেকগুলো বছরই পার করে ফেললেন তিনি।

জন্মদিন প্রসঙ্গে আসাদ বলেন, ‘এটা নিয়ে আমার মধ্যে তেমন কোনও উচ্ছ্বাস কাজ করে না। জন্মদিনের মধ্যে এখন আমি আনন্দের কিছুই দেখি না। আমরা বলি বয়স বাড়ে। বয়স তো আসলে বাড়ে না, কমে যায়। ধীরে ধীরে মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। জন্মাইলে মরতে হবে এটাই সব চাইতে বড় সত্যি। সেই মৃত্যুর দিকেই এক বছর করে এগিয়ে যাওয়ার আয়োজন চলছে।’

বরাবরই একান্তে নিজের মতো থাকতে পছন্দ করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। এবারের জন্মদিনটা কীভাবে কাটছে ? জানতে চাইলে রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘এমন কিছু করে ফেলেনি যার কারণে আমার জন্মদিন নিয়ে হই চই হবে। বরাবরই এই দিনে নিজের মতো করে থাকি। এবারও তাই, বাসাতেই আছি। আর কিছু বলার নেই। সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভালো থাকি, সুস্থ থাকি।’

রাইসুল ইসলাম আসাদ বেতার, মঞ্চে ও টেলিভিশনে অভিনয় করা শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে। চলচ্চিত্রে তিনি নাম লেখান ১৯৭৩ সালে। খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামের আলোচিত ছবিটি ছিল প্রথম ছবি। এরপর ১৯৮০ সালে সালাহউদ্দিন জাকীর ‘ঘুড্ডি’, ১৯৮১ সালে সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, ১৯৮৪ সালে কাজল আরেফিনের ‘সুরুজ মিঞা’-সহ এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এই বহুমাত্রিক অভিনেতা।

এখনও ভালো চরিত্র মিললেই অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। শিগগিরই ‘আদম’ নামের একটি ছবির শুটিং শুরু করবেন তিনি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে কালের পুতুল (২০১৮), আলতা বানু (২০১৮), মেয়েটি এখন কোথায় যাবে (২০১৭), গহীন বালুচর (২০১৭), যদি তুমি জানতে (২০১৬), গাড়িওয়ালা (২০১৫), অনুক্রোশ (২০১৪), একই বৃত্তে (২০১৩), মাটির পিঞ্জিরা (২০১৩), মৃত্তিকা মায়া (২০১৩), ক্ষীরমোহন মনের মানুষ (২০১০), সিরাজ সাঁই দূরত্ব (২০০৬), ঘানি (২০০৬), শামসু লালন (২০০৪) ,লালন আধিয়ার (২০০৩) , দীন দয়াল লালসালু (২০০১) ,মজিদ কিত্তনখোলা (২০০০), সোনাই হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৯), প্রেমেন্দ্র নন্দীর বুকের ভেতর আগুন (১৯৯৭), দুখাই (১৯৯৭), সত্যের মৃত্যু নেই (১৯৯৬), অন্য জীবন (১৯৯৫), সুজন সখি (১৯৯৪), পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), কুবের নতুন বউ (১৯৮৩), ঘুড্ডি (১৯৮০), আসাদ আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩)।

রাইসুল ইসলাম আসাদ ১৯৭৯ সালের ৯ই নভেম্বর তাহিরা দিল আফরোজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার একমাত্র কন্যার নাম রুবায়না জামান। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এখন পর্যন্ত তিনি ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘অন্য জীবন’, ‘লালসালু’, ‘দুখাই’, ‘ঘানি’ ও ‘মৃত্তিকামায়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি এ সম্মাননা লাভ করেন।

এমএবি/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :