নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে কাঁদছেন মায়া সিনেমার পরিচালক

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯

‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ সিনেমা দিয়ে ২০১৪ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে যাত্রা করেন কবি মাসুদ পথিক। সেরা চলচ্চিত্রসহ বেশ কয়টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছিল সেই সিনেমা। মাসুদ পথিক পুরস্কৃত হয়েছিলেন সেরা গীতিকার হিসেবে।

এই পরিচালকের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’। আসছে ২৭ ডিসেম্বর সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘নারী’ এবং বাংলাদেশের কবি কামাল চৌধুরীর ‘যুদ্ধশিশু’ কবিতা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘মায়া’। এখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের একজন সংগ্রামী বীরাঙ্গনার গল্প চিত্রিত হয়েছে। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি।

এরই মধ্যে ছবিটির প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন ‘মায়া’ ছবির টিম। সেই ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের মন্দ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন পরিচালক মাসুদ পথিক। সিনেমা মুক্তি দিতে গিয়ে তিনি নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি বোধ করি আর সিনেমা বানাবো না। বানানো সম্ভব নয়। এত ষড়যন্ত্র, এত ঈর্ষার আগুন ফেস করে বেঁচে থাকাই কি সম্ভব এই সমাজে? এই প্রশ্ন নিজের কাছেই? আহারে আমার ‘মায়া’। কান্না পাচ্ছে, খুব!’

আজ মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর মাসুদ পথিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সিনেমা 'রিলিজ' করতে এসে বুঝছি বাংলা সিনেমা কেনো আগাচ্ছে না। আর ষড়যন্ত্র কাকে বলে! ‘মায়া : দ্য লস্ট মাদার’ যাতে হল না পায় একটা গ্রুপ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আরে ভাই এটা কেনো ব্যক্তিগত সিনেমা নয়। এই সিনেমা আপনারই, আপনার আমার আত্মপরিচয়ের বিষয় নিয়ে নির্মিত। নিজেকে নিজেই খুন করতে চান?

একজন মাসুদ পথিক হয়তো আর সিনেমা নির্মাণে থাকবে না। কিন্তু এই মা, মাটি এবং দেশ থাকবে, আপনারা থাকবেন। এই সিনেমায় এসবের সত্যিকারের বাস্তবতা ও চেতনা চিহ্নই আঁকা হয়েছে। সো, বিবেচনা করুন। মায়া' কে মুক্তি দিবেন, নাকি অন্ধকারে বন্দি করে রাখবেন?

কসম, আমি সিনেমা দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবো না। 'নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ যতোই জাতীয় পুরস্কার পাক, বিদেশি পুরস্কার পাক, আমি ২ লাখ টাকাও পাইনি, ফাকে আমার বাপের ২ বিঘা জমি চলে গেছে। মায়া'ও তাই করছে। বিশ্বাস সে আপনার, এবং আপনাদের একান্ত বিষয়। তবে আমি বোধ করি আর সিনেমা বানাবো না। বানানো সম্ভব নয়। এতো ষড়যন্ত্র, এতো ঈর্ষার আগুন ফেস করে বেঁচে থাকাই কি সম্ভব এই সমাজে?? এই প্রশ্ন নিজের কাছেই?

আহারে আমার 'মায়া'.... কান্না পাচ্ছে, খুব!’

এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]