চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরকে হারানোর ৩১ বছর আজ

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আলমগীর কবির। ৩১ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবির।

যার হাত ধরে ঢাকাই সিনেমা পেয়েছে বেশকিছু কালজয়ী চলচ্চিত্র। আজও সেইসব সিনেমা দর্শককে বিনোদিত করে, ছুঁয়ে যায় জীবনের নানামুখী ভাবনায়। বাংলাদেশে অন্যধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের নেতৃত্বদান করা ছাড়াও আলমগীর কবির নেতৃত্ব দিয়েছেন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে, নেতৃত্ব দিয়েছেন চলচ্চিত্র সমালোচনা ও চলচ্চিত্র গবেষণার মননশীল আন্দোলনেও। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসারে আলমগীর কবিরই প্রথপ্রদর্শক ছিলেন। আলমগীর কবিরকে ঘিরেই শুরু হয় বাংলাদেশেন বিকল্প চলচ্চিত্র আন্দোলনের বাতাবরণ।

চলচ্চিত্রাচার্য আলমগীর কবিরের ৩১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি আয়োজন করেছে আলমগীর কবির স্মরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনার বিষয় আলমগীর কবিরের জীবন, কর্ম ও দর্শন। আয়োজনটি আজ ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার ৭০১ নম্বর কক্ষে বিকাল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে।

আলমগীর কবির স্মরণে আলোচনা করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াৎ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক রফিকুউজ্জামান এবং ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক বেলায়াত হোসেন মামুন। আলোচনা ও স্মরণ আয়োজন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

১৯৩৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে আলমগীর কবিরের জন্ম। তার পৈত্রিক বাড়ি বরিশাল। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে তিনি চলচ্চিত্রের উপর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকায় একটি ইংরেজি পত্রিকায় কাজ করেন এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে জহির রায়হানের সাথে এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদনা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ পাঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে লিবারেশন ফাইটার্স নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে সরাসরি নির্মাণে যুক্ত হন। জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইডের ধারা বর্ণনাও দেন তিনি।

চলচ্চিত্র সংসদ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন তিনি। ফিল্ম আর্কাইভ এন্ড ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সের সমন্বয়কারী ছিলেন। আলমগীর কবির চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, সাংবাদিক, সমালোচক, কাহিনী সংলাপ ও চিত্রনাট্য লেখক, চিত্রগ্রাহক, সুরকার এবং চলচ্চিত্র প্রশিক্ষক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে।

তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘মোহনা’, ‘মহানায়ক’, ‘পরিনীতা’, ‘ভোর হলো দোর খোল’ ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। মহানায়ক’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের সঙ্গে গড়ে উঠেছিলো তার সফল জুটি।

কলকাতার অভিনেত্রী জয়শ্রীও ছিলেন আলমগীর কবিরের প্রিয় শিল্পী। আলমগীর কবিরের সঙ্গে জয়শ্রী কবিরের জুটির জন্ম সত্তর দশকে। জয়শ্রী ছিলেন মিস ক্যালকাটা। তিনি ঢাকায় আসেন সিনেমায় অভিনয় করতে।

নির্মাতার নির্দেশনা শুনতে শুনতে এক সময় তাকে মন দিয়ে ফেলেন জয়শ্রী। দুজনে বসে যান বিয়ের পিঁড়িতে। আলমগীর কবিরের বেশির ভাগ ছবিতে অভিনয় করেছেন ভারতীয় সুন্দরী জয়শ্রী। তার পরিচালনায় অভিনেত্রী ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালী সৈকতে, মোহনা’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।

এমএবি/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]