হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় যতো গান

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২০ | আপডেট: ০৩:৪২ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২০

গান শুনতে পছন্দ করতেন হুমায়ূন। তার সৃষ্টিগুলো সেই সাক্ষী হয়ে আছে। বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীত ও হাছন রাজার গানের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের ছাপ বেশ স্পষ্ট। তিনি নজরুলের গানও শুনতেন, লোক গান-আধুনিক গান পছন্দ করতেন। গান লেখার শখও ছিলো তার। অনিয়মিতভাবে লিখতেন। নিজের সিনেমার জন্যই বেশি লিখেছেন। কিছু নাটকেও তার লেখা গান দেখা গেছে। দুই একটি গান লিখেছেন বিশেষ কোনো উপলক্ষে।

মজার ব্যাপার হলো নিজেকে কখনো গীতিকার হিসেবে পরিচয় দিতেন না তিনি। তবুও গীতিকার হিসেবে তিনি এদেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার লেখা গানগুলোর অধিকাংশই কালজয়ী হয়েছে। সেসব গান মুখে মুখে ফিরে মানুষের। হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে এই আয়োজন-

একটা ছিল সোনার কন্যা
চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় গীতিকবি হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘একটা ছিলো সোনার কন্যা’। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে এই গানটি ব্যবহৃত হয়। গানটি প্রকাশ হতেই সারা বাংলায় এটি জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। হাটে ঘাটে মাঠে শহর কিংবা নগর; সবখানেই বেজেছে সুবীর নন্দীর মিষ্টি গলার এই গান। এপার ছাড়িয়ে কলকাতাতেও তুমুল জনপ্রিয়তা পায় গানটি।

এই গানে কণ্ঠ দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা কণ্ঠশিল্পী হয়েছিলেন প্রয়াত সুবীর নন্দী। ছবিতে গানটি দেখা গিয়েছিলো অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের ঠোঁটে। এ গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা
‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে আরও একটি গান রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। সেটি হলো ‘আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা’। এটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

মাথায় পরেছি সাদা ক্যাপ
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দুই দুয়ারী’ ছবির এই গানটি গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী আগুন। এ গানটিরও সুর-সংগীতা করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

বরষার প্রথম দিনে
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দুই দুয়ারী’ ছবিতে ‘বরষার প্রথম দিনে’ গানটিতে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন। মকসুদ জামিল মিন্টুর সুর ও সংগীতে এই গানটির জন্য সাবিনা ইয়াসমিন ২৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার পুরস্কার পেয়েছিলেন। রোমান্টিক গান হিসেবে এটি আজও শ্রোতাদের মন ভরায়।

চাঁদনী পসরে কে আমারে স্মরণ করে
দারুণ অনুভূতির একটি গান। জোছনা রাতে এই গান শোনার আনন্দ পাননি কিংবা গুনগুন করে নিজেই গেয়ে উঠেননি এমন শ্রোতা হয়তো খুবই কম। গানটি ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চন্দ্রকথা’ ছবিতে গেয়েছেন সেলিম চৌধুরী। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

ও আমার উড়াল পঙ্খীরে
২০০৩ সালে মুক্তি পায় হুমায়ূন আহমেদের সিনেমা ‘চন্দ্রকথা’। এ সিনেমায় সুবীর নন্দী গেয়েছিলেন এই গানটি যার সঙ্গে পর্দায় ঠোঁট মেলান চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। এর সুর ও সংগীতায়োজনে ছিলেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

আমার আছে জল
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আমার আছে জল’। ছবিটি দিয়ে সিনেমায় অভিষিক্ত হন লাক্স তারকা বিদ্যা সিনহা মিম। আরও ছিলেন জাহিদ হাসান, ফেরদৌস, মেহের আফরোজ শাওন। এ ছবির জনপ্রিয় গান ‘আমার আছে জল’। এই গানের সুর ও সংগীত করেছেন হাবিব ওয়াহিদ।

বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান
‘আমার আছে জল’ ছবির গান এটাও। গেয়েছিলেন হাবিব ওয়াহিদ। বৃষ্টির দিনে এই গান শুনতে ইচ্ছে করে বারবার।

বাজে বংশী
২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ সিনেমায় গানটি গেয়েছেন শফি মণ্ডল ও ফজলুর রহমান বাবু। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু। এই গান গ্রাম-গঞ্জে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

লিলুয়া বাতাস
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এক কাপ চা’ ছবিতে এই গানটি গেয়েছেন রুনা লায়লা, এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ ও আঁখি আলমগীর। নায়ক ফেরদৌসের অনুরোধে প্রথমবার নিজের ছবির বাইরে নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘এক কাপ চা’ ছবির জন্য এই গানটি লিখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ।

এলএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]