গল্প ভালো না হলে শুধু অভিনয় দিয়ে কিছুই দাঁড়ায় না : অপু

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ রাশেদ মামুন অপু। তার সাবলীল অভিনয় খুব সহজেই দর্শক মুগ্ধ করে। বিশেষ করে তার মুখে রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষার সংলাপ দর্শককে মুগ্ধ করে খুব সহজেই। প্রথম ‘সিটিবাস’ নাটক দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান এই অভিনেতা। নাটকটি প্রচার হওয়ার পর ‘মামুর বেটা নাকি’, ‘আমি তোতা মিয়া’, ‘যবের ব্যাপার’, ‘ছোট ভাইকে বাচতেই পারছেন না’সহ বেশ কিছু ডায়ালগ দর্শকদের মুখে মুখে ঘুরেছে অনেক দিন।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন রাশেদ মামুন। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নাটক-বিজ্ঞাপনে। সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে। পাশাপাশি এই নির্মাণেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। ঈদে বেশ কিছু কাজ নিয়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন। সেইসব কাজের মূল্যায়ণ, সাম্প্রতিক ভাবনা ও ব্যস্ততা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে-

জাগো নিউজ : ঈদে আপনার দুটি নাটক খুব প্রশংসিত হয়েছে। কেমন লাগছে জানতে চাই.....
অপু : এটাই তো একজন অভিনেতার কাঙ্ক্ষিত চাওয়া। নিজেকে চরিত্রনুযায়ী সবসময় ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়েই একজন অভিনেতার জার্নি চলে জীবনভর। চলতি পথে এসব ভালো কাজ আমাকে উদ্যমী করে সামনে আরও ভালো কিছু করতে। দর্শকই আমার প্রাণ। তাদের ভালো লাগা আমাকে প্ররণা দেয়। যে দুটি কাজের জন্য প্রশংসা পাচ্ছি দুটি কাজ করেই অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম। কাজের সময় আনন্দ পাওয়াটা জরুরি।

জাগো নিউজ : দীর্ঘদিন ঘরবন্দী ছিলেন। একটা অন্যরকম জীবন কেটেছে করোনার কারণে। ঘরে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। এখন আবার সেই অভ্যাস ফেলে বাইরে ছুটতে হবে, কাজে ফিরতে হবে নিয়মিত। এই মুহূর্তে উপলব্দিটা কী?
অপু : ঘরবন্দী জীবন আমাকে অনেকদিন পর নিজের মধ্যে ফেরার উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে। গত ৭-৮ বছর চোখ বন্ধ করে কাজ করে গেছি। বোধহীন রোবটের মতো ছিলাম অনেকটা। কি করছি বিবেচ্য ছিলো না। দিন বিক্রি করাই যেন মূখ্য। নিজের খেরো খাতার হিসেব যখন ঘরবন্দী হয়ে নিতে বসলাম তখন দেখি বাস্তবতার চাপে পিষ্ট একজন অভিনেতা শুধু কাজের পেছনে ছুটেই গেছে, ছুটেই গেছে। প্রাপ্তি বা তৃপ্তিটা কোথায়?

এসব ভেবে আয়নার দিকেও তাকাতাম না আমি। ভেতরের তাগিদ পাইনি। তবে এই ঘরবন্দী জীবনে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়াটা মজবুত হয়েছে। প্রচুর পড়াশোনা করেছি। অনেক কাজ দেখার সুযোগ হয়েছে। আমার ধারণা এগুলো আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। মনে হচ্ছে অনেক কিছু নতুন জেনেছি, শিখেছি। সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আশা করি এবার চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।

জাগো নিউজ : নতুন করে কাজের ফেরার জন্য তাহলে পরিকল্পনা করেছেন?
অপু : না, সেই অর্থে কিছুই নয়। পরিকল্পনা মানে ভালো স্ক্রিপ্ট, ভালো চরিত্রগুলো পেতে চাই। স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হবো। বেশ কিছু ওয়েব ফিল্মে কাজের কথা হচ্ছে। ব্যাটে বলে মিললে হয়ত নতুন নতুন ভাবেই আমাকে দেখা যাবে। কিছু নতুনত্ব নিয়ে কাজ করবো আরকি।

জাগো নিউজ : বর্তমান টিভি নাটকের কাজের পরিবেশ নিয়ে কি বলবেন?
অপু : দীর্ঘ ৩-৪ মাস কাজ বন্ধ থাকার পর আন্তসংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই সবাই শর্ত মেনে যতদূর সম্ভব সর্তকতা মেনেই কাজ করেছে। কিন্তু অভিনয়ের কাজে সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোর এত সাবধানতা মেনে আর যাই হোক অভিনয় তো করা সম্ভব না। তাই ঝুঁকি জেনেও আমরা কাজ করেছি। সামনেও করবো।

করোনার আতঙ্কে শুটিংয়ের সেই আনন্দটা এখন নেই। পরিবেশও থমথমে। একটা অজানা ভয় সবার চোখে মনে। আমরা আশাবাদী একদিন এই গ্রহণকাল কেটে যাবে। আবার প্রাণখুলে মনের আনন্দে কাজ করব সবাই।

জাগো নিউজ : ভিউয়ের হিসেবে নাটকের মান জাস্টিফাই করা এবং ভাইরাল কনটেন্ট প্রসঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী?
অপু : ভিউ মানেই তো ভালো লাগা, তৃপ্তি। নিজের নাটক ভিউ পাচ্ছে এটা তো বিশাল আনন্দের ব্যাপার। কারণ লোকে দেখবে বলেই তো আমরা কাজ করি। তবে শুধুমাত্র ভিউ এবং ভাইরাল হবার জন্য কনটেন্ট বানানো যদি মূখ্য হয় তখন আমার আপত্তি আছি। দর্শক কি চায় সেটাকে প্রধান্য না দিয়ে শিল্প কী বলতে চায়, দেখাতে চায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। টিভিতে কিন্তু একটা নাটক প্রদর্শনের জন্য ন্যূনতম সেন্সর লাগে। ইউটিউব কিন্তু ওপেন। যার যা ইচ্ছে দেখাতে পারছে। তাই এখানে একটু সাবধান থাকা উচিত। একটু মানের দিকে নজর রাখা উচিত। সব ওপেন পেয়ে যা তা করলে তো আর শিল্প হলো না।

দেখুন, দর্শক আমার রুচি সেট করে দিলে তো মুশকিল ভাই। তবে একটা ব্যাপার কি, পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই হয়ে আসছে যে খারাপ কাজের দিকে মানুষ বড়াবড়ই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ভালো কাজের লোক কম। কিন্তু দিনশেষে ভালো কাজগুলোই ইতিহাস হয়েছে।

জাগো নিউজ : আপনি এখন অভিনয় ও নির্মাণ দুইটা একসঙ্গে করছেন। তৃপ্তি বা সন্তুষ্টির জায়গায় কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?
অপু : অভিনয় আমার পেশা। আমি আমার পেশার প্রতি শতভাগ সৎ। আর নির্মাণ হচ্ছে আমার প্যাশন। যেহেতু নির্মাতা হতেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম সেহেতু আমার স্বপ্ন হচ্ছে নির্মাতা হওয়া। তবে এটাকে পেশা হিসেবে নয়, মনের আনন্দ হিসেবে নিতে চাই। খুব ইউনিক কিছু পেলে নির্মাণ করবো, এই আরকি।

জাগো নিউজ : গল্পনির্ভর না অভিনয়নির্ভর পাণ্ডুলিপি বেশি পছন্দ?
অপু : অবশ্যই গল্প নির্ভর পান্ডুলিপি পছন্দ। অভিনয় গল্প দ্বারা হয়, গল্প ভালো না থাকলে অভিনয় দিয়ে ক্যারিকেচার সম্ভব কিন্তু দিনশেষে কিছুই দাঁড়ায় না।

জাগো নিউজ : এ মুহূর্তের ব্যস্ততা কেমন?
অপু : বর্তমানে আমার অভিনীত ৫টি ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে। সেগুলোতে কাজ করতে হয়। বেশ কিছু ওয়েব ফিল্মে কাজ চুড়ান্ত হয়েছে। আরও কিছু আলাপ চলছে। ব্যাটে বলে মিললে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়বো।

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]