গুঞ্জন সত্যি করে আমেরিকায় স্থায়ী হলেন শাকিব, পেয়েছেন গ্রিন কার্ড

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২১ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

সেই ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি জাগো নিউজ সংবাদ প্রকাশ করেছিল দেশের নায়ক শাকিব খান আমেরিকায় স্থায়ী হচ্ছেন। তিনি দেশটির নাগিরকত্ব চেয়ে আবেদন করেছেন। তখন সেই তথ্য মিথ্যা ও গুজব দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে দুই বছর পর সেই গুজবই সত্যি হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ব্যবস্থা হয়ে গেছে তার। তিনি এখন সে দেশের নাগরিক।

বেশ কিছু সূত্র নিশ্চিত করেছে, শাকিব খান আমেরিকার গ্রিন কার্ড হাতে পেয়েছেন। এজন্যই গত ছয় মাসেরও বেশি ধরে তিনি মার্কিন মুলুকে পড়ে আছেন সিনেমা-শুটিং ফেলে।

জাগো নিউজের সেই নিউজে বলা হয়েছিল, ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান অভিনয়শিল্পী হিসেবে ইবি ক্যাটাগরিতে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তার সেই আবেদন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত হয়েছে। একটি দক্ষ এজেন্সির মাধ্যমে শাকিব খান আবেদনটি করেছেন।

এ বিষয়ে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে তখন শাকিব খানের মতামত জানতে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া দেননি। তবে অন্য কিছু গণমাধ্যমে দাবি করেন, আমেরিকার ভিসা বা গ্রিনকার্ড সংক্রান্ত সংবাদটি ভুয়া। এমনকি ২০২১ সালের নভেম্বরে আমেরিকায় পৌঁছানোর পরও তিনি সে দেশের নাগরিকত্ব চাওয়া প্রসঙ্গে মিথ্যাচার করেছেন। কিন্তু তার সেসব বক্তব্য এখন ভুয়া হিসেবে প্রমাণ হলো।

করোনার কারণে কার্যক্রম পিছিয়ে যায় প্রায় দুই বছর। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে গত বছরের নভেম্বরে দেশ ছেড়েছিলেন শাকিব খান। উদ্দেশ্য, স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগটা নেওয়া। নভেম্বরের পর আর দেশে ফেরেননি এই তারকা। অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত খামটি। তিনি হাতে পেয়েছেন বাইডেনের দেশের প্রিন্ট করা গ্রিন কার্ড। শিগগিরই সে দেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্টও পাবেন। বিষয়টি দেশের কিছু গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আমেরিকা প্রবাসী শাকিবের ঘনিষ্ঠরা।

এর মধ্যে একজন জানান, নিয়ম অনুযায়ী শাকিব খান গ্রিনকার্ড আগেই পেয়েছেন। আমেরিকায় টানা তার ছয় মাস থাকার বিষয়টিও পূরণ হয়েছে। সবশেষ প্রিন্ট আকারে যে কার্ডটি আসার কথা, সেটিও তিনি পেয়েছেন।

অন্যদিকে আরেকজন জানান, আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশে আসবেন শাকিব। ঢাকায় পৌঁছাবেন ৮ জুলাই। এখন থেকে নিজের জন্মভূমিতে অতিথি পাখি হয়ে আসবেন শাকিব। কাজ সেরে আবারও তার নতুন দেশ আমেরিকায় উড়াল দেবেন।

শাকিব সে দেশের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন এ খবর সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বেশ ধাক্কা দিয়েছে। হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন জনপ্রিয় এ নায়ক? তবে কী তিনি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অনিরাপত্তায় ভুগছেন?

দীর্ঘদিন ধরে একক রাজত্ব কায়েম করে ঢালিউড মাতিয়ে চলছেন তিনি। বছরে তার ছবিই কিছুটা ব্যবসা করতে পারছে এ মন্দার বাজারে। তবে বছর বছর কমছে হল, বাড়ছে সিনেমা নিয়ে অস্থিরতা। সেই সব বিষয় হয়তো হতাশ করছে শাকিবকে। বয়সও বাড়ছে, শারীরিকভাবেও প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি। ক্যারিয়ারেরও ভাটার সময় শুরু হয়েছে। একটা সময় তো থামতে হবেই। সেই সব দিক বিবেচনা করে নিজের জনপ্রিয় ইমেজ ধরে রেখে আড়ালে চলে যেতে চান তিনি। স্থায়ী হতে চাইছেন বিদেশে, এমনটা মনে করছেন অনেকে।

কেউ আবার দাবি করছেন, আমেরিকায় শুটিং করার যে জটিলতা তা কাটাতেই দেশটির স্থায়ী নাগরিকত্ব চাইছেন তিনি। এর আগে বেশ কয়েকবার শুটিংয়ের জন্য আবেদন করেও ভিসা পাননি। হয়তো সেজন্যই এ সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করতে চাইতেন, তাদের মাথায় প্রথমই আসত রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা। গ্রিনকার্ড পেতে এ পদ্ধতিকেই তারা প্রধান উপায় বলে মনে করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমেরিকা সহজ একটি সুযোগ দিয়েছে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের জন্য।

সেই সুযোগটির নাম ইবি ক্যাটাগরির ভিসা। এর মাধ্যমে যারা মেধাবী এবং দক্ষ পেশাজীবী তারা আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীর গুণাবলি ও দক্ষতা কাজে লাগালে আমেরিকা উপকৃত হবে এমনটি মনে হলে তাকে গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়।

শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ীসহ নানা ধরনের পেশাজীবীর মধ্যে যাদের নিজস্ব গবেষণাপত্র আছে কিংবা বিশেষ সম্মানসূচক পদক বা সম্মাননাপত্র পেয়েছেন তারা এ সুযোগ নিতে পারেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনেকেই এ কোটার ভিসা নিয়ে গ্রিনকার্ড পেয়েছেন।

এলএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]