শুভ জন্মদিন সঞ্জীব চৌধুরী
২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার অকাল প্রয়াত সংগীতশিল্পী, গীতিকার, কবি ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের দিনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে দলছুট ব্যান্ড গড়ে অনেক জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। শিল্পী ও গীতিকবি হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
এদিকে সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী। মূলত তার হাত ধরেই দৈনিক পত্রিকায় ফিচার বিভাগ নিয়মিতভাবে চালু হয়। জীবদ্দশায় দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক আজকের কাগজ ও দৈনিক যায়যায়দিনে কর্মরত ছিলেন। প্রতি বছর সঞ্জীব চৌধুরীর জন্মবার্ষিকীতে দলছুটের আয়োজনে ‘সঞ্জীব উৎসব’ আয়োজন করা হলেও, এবার বিভিন্ন কারণে সেটা হচ্ছে না। উৎসব আয়োজন না হলেও সঞ্জীব বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এই বৃত্তি পৌঁছে দেয়া হবে নির্বাচিতদের ঠিকানায়।
সঞ্জীব চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের সময় তার লেখা প্রতিবাদী কবিতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবেও তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৯০ সালে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে মিলে সঞ্জীব চৌধুরী গঠন করেন ব্যান্ড দলছুট। ১৯৯৬ সালে এ ব্যান্ড তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘আহ’ প্রকাশ করে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর তাদের ‘হৃদয়পুর’, ‘আকাশচুরি, এবং জোছনাবিহার’ অ্যালবাম থেকে একাধিক গান জনপ্রিয়তা পায়। সঞ্জীব চৌধুরীর ক্যারিয়ারের একমাত্র একক অ্যালবাম ছিল ‘স্বপ্নবাজী। এসব অ্যালবামে সঞ্জীব-বাপ্পার গাওয়া ‘গাড়ি চলে না’, ‘বায়স্কোপ’ এবং সঞ্জীবের কণ্ঠে ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘চোখটা এত পোড়ায় কেন’-সহ একাধিক গান শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।
২০০৭ সালের ১৯শে নভেম্বর হঠাৎ অসুস্থ অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এ গুণী ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুর এত দিন পরেও সঞ্জীব চৌধুরীর গান-লেখা-কবিতা এতটুকু মলিন হয়নি। বরং, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে তার সৃষ্টি। এই সৃষ্টির মাধ্যমে চিরদিন মানুষের হৃদয়ে অমলিন থাকবেন সবার প্রিয় সঞ্জীব চৌধুরী।