সঞ্চয়পত্র কেনার শর্ত কী, কারা কিনতে পারেন?
সঞ্চয়পত্র হচ্ছে একটি সঞ্চয় স্কিম বা ফিক্সড ডিপোজিট। বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের তুলনায় এবং নিশ্চিত ও সর্বোচ্চ মুনাফার দিক থেকেও সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
এটি মূলত সরকারের অনুমোদিত একটি বন্ড বা ডিপোজিট, যা ব্যাংক ও ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়। বেসরকারি খাতের চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরাপদ, কারণ সরকারের গ্যারান্টি থাকে। সঞ্চয়পত্র কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি নিয়মিত মুনাফা (মাসিক/ত্রৈমাসিক/মেয়াদান্তে) এবং মেয়াদ শেষে আপনার আসল টাকা ফেরত পেতে পারেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে পাওয়া যায় ৯৪৪ টাকা।
তবে সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে কিছু শর্ত মানতে হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক-
১. আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। শিশু বা নবজাতক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারলেও, তার জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের অনুমোদন।
২. শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরা সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন এবং স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশে থাকতে হবে।
৩. সরকারের নির্ধারিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ টাকা সীমা মেনে টাকা জমা দিতে হবে। আধুনিক সময়ে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য ব্যাংক বা ডাকঘরের মাধ্যমে টাকা জমা করতে হয়। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মেয়াদও প্রকারভেদে নির্ধারিত থাকে, যেমন ৩, ৫ বছরের মেয়াদি সঞ্চয়পত্র রয়েছে।
সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন সাধারণ নাগরিক (প্রতিবন্ধী হলেও), শিশু বা কিশোরদের জন্য অভিভাবকের মাধ্যমে, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কিছু বিশেষ প্রকারের সঞ্চয়পত্র সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও কিনতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষ মূল টাকার নিরাপত্তা পায়, সঙ্গে নির্দিষ্ট সুদও অর্জন করে। কিছু প্রকার সঞ্চয়পত্রে আয়ের উপর কর ছাড়ও পাওয়া যায়।
সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহজ ও স্বচ্ছ। ডাকঘর ও ব্যাংকের মাধ্যমে সহজে কেনা যায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত সুদ প্রদান নিশ্চিত থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থির নিরাপত্তা তৈরি করে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষজনের মধ্যে সঞ্চয়পত্রের প্রতি বিশ্বাস অনেক বেশি, কারণ এটি ঝুঁকিমুক্ত, নির্ভরযোগ্য এবং লাভজনক।
আরও পড়ুন
আয়কর রিটার্ন কীভাবে ফাইল করবেন?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কত লাখে কত পাবেন?
সূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর
কেএসকে