পাঠ্যক্রমে জ্যোতির্বিজ্ঞান যুক্ত করার আহ্বান

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৮

আকাশের সঙ্গে যুক্ততা শেষ বিচারে যুক্তিবোধ সম্পন্ন বিজ্ঞানমনষ্ক প্রজন্ম তৈরি করে। তাই স্কুলের পাঠ্যক্রমে জ্যোতির্বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো যুক্ত করা প্রয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিও গ্যালিলেই’র চিন্তার জগৎ নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার ঢাকার বাতিঘর পুস্তক বিপণী কেন্দ্রে আয়োজিত বিজ্ঞান আড্ডায় এমন দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ‘নক্ষত্রের বার্তাবহ: গ্যালিলিও গ্যালেলেই- গ্যালিলিও গ্যালেলেই এর চিন্তার জগতে পদচারণা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

আকাশে ‘সন্ধ্যাতারা’ নামে পরিচিত শুক্রগ্রহের চলাচল থেকে ‘পৃথিবী কেন্দ্রিক’ ধারণা থেকে বের হয়ে আসা, গির্জার ঝাড়বাতির দোলন থেকে সরল দোলক আর পিসার হেলানো মিনার থেকে ভারি-হালকা বস্তু ফেলে দিয়ে পড়ন্ত বস্তুর সূত্রের সন্ধান- এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে তাঁর চিন্তা ও মননের যোগসূত্র কী? কীভাবে তিনি চিন্তা করতেন? কীভাবে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানের উপসংহারে পৌঁছতেন এসব নিয়েই ছিল এ আয়োজন।

সভায় গ্যালিলিও গ্যালেলেই’র বহুমুখী কর্মক্ষমতা নিয়ে দু’টি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুওয়াইসির সুহাইল সৃষ্টি ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ দিহান। তারা বলেন, বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মতে আধুনিক যুগে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এত বিশাল অগ্রগতির পেছনে গ্যালিলিওর চেয়ে বেশি অবদান কেউ রাখতে পারেনি। গ্যালিলিও সর্বপ্রথম বিজ্ঞানের পরীক্ষা-পদ্ধতির প্রচলন করেন। তিনিই প্রথম টেলিস্কোপ দ্বারা সৌরজগত পর্যবেক্ষণ করে কোপার্নিকাসের তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করেন। শুধু বিজ্ঞানী কিংবা সত্যসন্ধানী নয়, গ্যালিলিও পারদর্শী ছিলেন খেলনা তৈরিতে, গান-বাজনায়, কবিতা লেখায়, ছবি আঁকায়। ১৯ বছর বয়সে পিসার বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যা নিয়েও পড়াশোনা করেছেন তিনি।

science-in

নিবন্ধের ওপর আলোকপাত করেন বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহ সভাপতি মুনির হাসান। তিনি বলেন, গ্যালিলিওকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলার কারণ তখনকার গতানুগতিক চিন্তাধারাকে দূরে ফেলে তিনি ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারতেন। সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই কেন কষ্ট হয়, নামতে কেন কষ্ট হয় না, ভারী বস্তু আগে কেন পড়বে, পৃথিবী যদি কেন্দ্রেই থাকবে তাহলে চাঁদের মতো শুক্র কেন আমার মাথার উপর দিয়ে যায় না- এসব নিয়ে তিনি চিন্তা করতেন। পারিপার্শ্বিকতা থেকে ঘটনাকে কীভাবে বের করে এনে সেটিকে একটি তত্ত্ব-কাঠামোতে সাজাতে হয় এবং পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণে সেটিকে কীভাবে যাচাই বাছাই করতে হয়, তা গ্যালিলিওই আমাদের প্রথম শিখিয়েছেন।

গ্যালিলিওর বিভিন্ন আবিষ্কারের পেছনে তার চিন্তা-ভাবনার জগৎটা কেমন ছিল সেটিও আড্ডায় অনুসন্ধান করা হয়। সব শেষে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বুয়েটের অধ্যাপক ও বাবিজসের সাধারণ সম্পাদক ফরসীম মান্নান মোহাম্মদী। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশন করেন অতন্দ্রিলা অনুভা ও মুনতাহা তানহা।

এসইউ/পিআর