৫০০ টাকার যবের ছাতু ও আটায় লাখপতি নিপা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৭ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

তরুণ উদ্যোক্তা নিপা সেনগুপ্ত (২৩) কাজ শুরু করেন বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যবের ছাতু ও যবের আটা নিয়ে। তিনি শুরু করেন মাত্র ৫০০ টাকা মূলধন দিয়ে। আস্তে আস্তে পরিচিতি বাড়তে থাকে। আসতে থাকে পজিটিভ রিভিউ। কাস্টমারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পণ্যতালিকায় যুক্ত হয় গম, চাল, মসুর ও ছোলার মিশ্রণে ‘পঞ্চ-ব্যাঞ্জন ছাতু’।

এরপর ধীরে ধীরে যুক্ত হতে থাকে ভেজালমুক্ত আখের গুড়, পাবনার ঘি, গমের লাল আটা, দেশি ধানের চাল, মৌসুমী আচার, দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় ফলের গাছ। ব্যবসা শুরুর ৩ মাসের মধ্যে সব পণ্য মিলিয়ে নিপার আয় হয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকার উপরে। সাথে সাথে উই গ্রুপেও পরিচিতি বাড়ে।

তরুণ নারী উদ্যোক্তা নিপা সেনগুপ্ত বলেন, ‘অনার্স শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। পাঁচটি পরীক্ষাও শেষ হয়েছিল। এরমধ্যেই করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আমিও বাসায় বন্দি হয়ে গেলাম। এসময় এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে উই গ্রুপে যুক্ত হই। এখানকার নারীদের কাজ দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই।’

jagonews24

সফল এ নারী আরও বলেন, ‘প্রথমেই ভালো লাগা তৈরি হয়। আস্তে আস্তে নিজের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হয়। স্বামীর সহযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যবের ছাতু নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু ভাবিনি, এই ছাতু নিয়েই আমি লাখপতি হতে পারব। বর্তমানের উই থেকে আমার সেল প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকারও উপরে।’

নিপা সেনগুপ্তের কাজের সাথে এ অঞ্চলের দু’জন নারী যুক্ত হয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছেন। রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের আবেদা বেগম (৪৮) বলেন, ‘নিপা বাজার থেকে যব কিনে আমাদের কাছে দেয়। আমরা যবগুলো পরিষ্কার করে শুকিয়ে বালুতে ভেজে দেই। এর জন্য নিয়মিত টাকা পাই। যাতে সংসারের অনেক উপকার হয়। বাড়তি আয় করতে পারি।’

এসইউ/এএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]