জেনে নিন ব্যান্ডেজ উদ্ভাবনের মজার কাহিনি

ডা. হিমেল ঘোষ
ডা. হিমেল ঘোষ ডা. হিমেল ঘোষ , চিকিৎসক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ১১ নভেম্বর ২০২০

অডিও শুনুন

বিশেষ ধরনের এডহেসিভ ব্যান্ডেজ তথা ড্রেসিংয়ের একটি ব্র্যান্ড হলো ব্যান্ড-এইড। কালের আবর্তে এখন প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ফার্স্ট এইড বক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এই ব্যান্ড-এইড। জার্মান ‘ব্যান্ড’ শব্দের অর্থ হলো ‘টেপ’। সুতরাং শাব্দিকভাবে ব্যান্ড-এইডের মানে হলো সাহায্যকারী টেপ। বিভিন্ন ছোটখাটো কাটা-ছেড়ায় বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা উপকরণ হলো ব্যান্ড-এইড।

ফার্মাসিউটিক্যাল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবিধ যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী আমেরিকান প্রতিষ্ঠান বিশ্বখ্যাত ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ কোম্পানি এটি পৃথিবীজুড়ে বিপণন করে থাকে। ১৯২০ সালে প্রথম উদ্ভাবনের পর থেকে ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ কোম্পানির ব্যান্ডেজের ব্র্যান্ডটি আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ দেশে দেশে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। একসময় এডহেসিভ ব্যান্ডেজের সমার্থক হিসাবে পরিগণিত হতে থাকে। বর্তমানে এটি এমন একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে যে, সাধারণ মানুষ এডহেসিভ ব্যান্ডেজ চেনে না, কিন্তু ব্যান্ড-এইড বললে অনেকেই চিনে ফেলে।

ব্যান্ডেজটির প্রথম উদ্ভাবনের কাহিনি কিন্তু বেশ মজার। এ এডহেসিভ ব্যান্ডেজের আবিষ্কারক আর্ল ডিকসন। আর্ল ডিকসনের স্ত্রীর নাম ছিল জোসেফাইন। জোসেফাইন সবজি কাটা ও রান্নার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনাবশত নিজের হাত কেটে ফেলতেন বা পুড়িয়ে ফেলতেন। আর্ল ডিকসন তখন জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির নিউ জার্সির হাইল্যান্ড পার্ক শাখায় চাকরি করতেন। স্ত্রীর এমন দুর্দশা দেখে তিনি ওই কোম্পানির দুটি পণ্য- টেপ এবং গজ কাপড় একসাথে করে ব্যান্ডেজটি বানিয়েছিলেন। সেখান থেকেই এ বৈপ্লবিক ফার্স্ট এইড উপকরণটির জন্ম।

ব্যান্ডেজটি কারো কোনো সাহায্য ছাড়াই জোসেফাইন নিজের ক্ষতস্থানে সহজে প্রয়োগ করতে পারতেন। স্ত্রীর উপকারে আসছে দেখে ডিকসন তার কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও ব্যান্ডেজটির কথা জানান। ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ কোম্পানির বস ডিকসনের আবিষ্কারটির ব্যাপারে আকৃষ্ট হয়ে এটিকে তার কোম্পানির ব্র্যান্ডের আওতায় ‘ব্যান্ড-এইড’ নামে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।

cover-and-in-(2).jpg

আকারে ছোট, ক্ষতস্থানে সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং অন্য কারো সহায়তা ছাড়াই নিজে নিজে এটি ব্যবহার করা যায়, বিধায় বাজারে আসার পর-পরই এটি সীমাহীন জনপ্রিয়তা পায়। এ জনপ্রিয় আবিষ্কারটির জন্য কোম্পানিতে আর্ল ডিকসনের ক্যারিয়ারও তরতর করে এগিয়ে যায়। ১৯৫৭ সালে ডিকসন কোম্পানির চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের আগে তিনি ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

১৯২০ সালে ব্যান্ড-এইড আবিষ্কৃত হলেও প্রথমে তা কিন্তু ছিল পুরোপুরি হস্তনির্মিত। ১৯২৪ সালে ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ কোম্পানি মেশিনে নির্মিত ব্যান্ড-এইড উদ্ভাবন করে এবং এর পর থেকেই এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। ১৯৩৯ সাল নাগাদ পরিশোধিত ও জীবাণুমুক্ত ব্যান্ড-এইডের বিশ্বব্যাপী বিপণন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময়ে বহু সৈনিকের জীবন বাঁচিয়েছিল এ ব্যান্ড-এইড।

১৯৫১ সাল থেকে বিভিন্ন ধরনের নকশাকৃত ব্যান্ড-এইডের প্রচলন শুরু হয়। মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক, সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, বার্বি ইত্যাদি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের থিম নিয়ে তৈরি করা হতো বিভিন্ন নকশাকার ব্যান্ড-এইড। মূলত শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং আগ্রহের জন্য এ ধরনের নকশাকৃতির ব্যান্ড-এইড বাজারে আনে জনসন অ্যান্ড জনসন।

পরবর্তীকালে ব্যান্ড-এইডের ট্রেডমার্ক সংরক্ষণের জন্য শুধু ‘ব্যান্ড-এইড’র পরিবর্তে জনসন অ্যান্ড জনসন ‘ব্যান্ড-এইড ব্র্যান্ড এডহেসিভ ব্যান্ডেজ’ হিসাবে তা বাজারজাত করা শুরু করে। আর্ল ডিকসনের এ ঐতিহাসিক আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে এ বছর। প্রাত্যহিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসাবে ব্যান্ড-এইড এবং এর আবিষ্কারক আর্ল ডিকসনকে শ্রদ্ধাবনতভাবে যুগ যুগ ধরে সবাই স্মরণ করবে।

এসইউ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।