বাবা, আমি তোমার মতো হতে চাই

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ এএম, ১৯ জুন ২০২২

মো. আলম হোসেন

বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা আর অন্তহীন ভালোবাসা। বাবা আসলে শুধু একটি নাম বা ডাকার মতো শব্দ নয়। বাবা হচ্ছেন একটি সুবিশাল বটবৃক্ষ। যার ছায়া পৃথিবীর সব ঝড়-ঝাপ্টা আর রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে বুকে আগলে রাখে।একটি শব্দ ও দু’টি বর্ণে হৃদয়ের স্পন্দন। বাবাকে নিয়ে যত কথা, যত স্মৃতি; তা কয়েক কোটি শব্দ দিয়েও পূরণ করার নয়।

আমার বাবা ১৯৮৮ সালের ২২ এপ্রিল দিবাগত রাতে তারাবি নামাজরত অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কাঁদিয়ে গেলেন আমাদের। দেখতে দেখতে ৩৪টি বছর চলে গেল। কিন্তু আজও বাবার স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। বাকি জীবনের জন্য খুঁজে পাচ্ছি আত্মবিশ্বাস।

আমি গর্ব করি আমার বাবাকে নিয়ে। আমার বাবা মরহুম সোনাহর আলী কাঁচা মিয়া মেম্বার ছিলেন। তিনি একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। অল্প সময়েই তার নাম-ডাক, সুনাম বিশ্বনাথসহ সিলেটের ব্যাপক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। একসময় তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউপি সদস্য হয়ে ওঠেন। তিনি পালের চক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। যে কারণে তাকে অনেকে কাঁচা মেম্বার নামে বেশি স্মরণ করে থাকেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা সব সময় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখনো তার সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে গল্প করেন, একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার কাছে আমার বাবা পৃথিবীর সেরা বাবা। কোনো দিবসে নয়, যতদিন বেঁচে আছি; বাবাকে নিয়ে আমার প্রতিক্ষণ মধুময় হয়ে থাকবে। আমি একজন সৎ, সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান। যার পরিচয় দিতে গর্বে বুক ভরে ওঠে। আমার বয়স যখন সাত বছর; তখন বাবাকে হারালাম। বড় হয়ে যখন সমাজে চলাফেরা করি, মাথার ওপর বাবার ছায়া কী জিনিস হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি। বাবা হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি।

অনেক বছর পর আজ বাবার কথা প্রচণ্ডভাবে মনে পড়ছে। বাবার উপস্থিতি আর নির্দেশনা জীবনে কতটুকু প্রয়োজন, তা আজ প্রতিক্ষণে উপলব্ধি করছি। কিন্তু তার মতো মহান হৃদয়ের মানুষ হতে পারিনি। বাবা বলতেন, মানুষের জন্য সাধ্যমত নিঃস্বার্থভাবে গোপনে কাজ করতে। মানুষের কাছে এখনো শুনি তিনি মানুষের জন্য আজীবন কীভাবে কাজ করে গেছেন।

‘বাবা, আমি তোমার মতো হতে চাই।’ আমার স্বপ্ন আমি আমার বাবার মতো হবো। কিন্তু পারি না। সন্তান তার বাবাকে অনুসরণ করলেও অনুকরণ করতে পারে না। আমি একজন সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান, যার পরিচয় দিতে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। যে বাবা একসময় নিজে ভোগ না করে আমাদের অকাতরে দিয়ে গেছেন। অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ববান বাবাকে হারিয়েছি। যিনি শুধু মানুষের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করতেন। তার সন্তানদের সব স্বপ্নপূরণে সদা সচেষ্ট থাকতেন। যিনি হাজারো দুঃখে-কষ্টে সন্তানদের বড় করেছেন তাদের সব অমূলক আব্দার পূরণ করেছেন। যেন আমরা তার মতো মানুষ হওয়ার পথে একটু হলেও অগ্রসর হতে পারি।

আজকের এই বাবা দিবসে আমরা সব ভাই-বোনের পক্ষ থেকে তাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। মহান রাব্বুল আলামিন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। ‘বাবা, আজ তোমায় খুব মনে পড়ছে। তোমার অভাব প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি কাজে, প্রতি অবস্থায়ই অনুভব করি আমার অস্তিত্বজুড়ে।’ মানুষ মরণশীল। আমিও একদিন চলে যাব পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু তাকে হারিয়ে আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু হারিয়েছি।

পৃথিবীতে চলার পথে অনেক বাবা দেখেছি। কিন্তু আমার বাবার মতো কেউ নেই, কেউ হতেও পারবে না। আমার বাবা শুধু আমাদেরই বাবা। বাবা হারানোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। বাবার স্মৃতিগুলো বড় কাতর করে রাখছে। আমরা চার ভাই, চার বোন ও মা আছেন। আমি সবার ছোট। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই ফারুক আহমেদ আমাদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আজও তিনি বাবার মতো সবাইকে আগলে রেখেছেন। তবুও বাবার শূন্যতা কখনোই পূরণ হয় না।

লেখক: বেলজিয়াম প্রবাসী।

এসইউ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]