কনকনে শীতেও থেমে থাকে না জীবন

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:২৫ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
কনকনে শীতেও থেমে থাকে না জীবন

কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। রাজধানীর শাহবাগের অদূরে সংস্কারাধীন পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এর বিপরীত দিকে সিগন্যাল বাতির সংলগ্ন রাস্তার আইল্যান্ডে একটি ছেঁড়া পোস্টারের ওপর বসে একাকি খেলা করছিল আনুমানিক তিন-চার বছর বয়সী একটি শিশু।

অদূরে শিশুটির চেয়ে চার-পাঁচ বছরের দুটি ছেলেমেয়ে রেড সিগন্যালে থেমে থাকা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে লুছনি বিক্রির চেষ্টা করছিল। ওদের গায়ে গরম পোশাক থাকলেও পায়ে জুতো নেই। ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে মাথায় টুপি নেই। সবুজ বাতি জ্বলে উঠতেই অপেক্ষাকৃত বড় দুটি শিশু দৌড়ে ছোট শিশুটির সঙ্গে দুষ্টমিতে ব্যস্ত হয়। সোমবার বিকেল ৩টায় এ দৃশ্য প্রতিবেদকের চোখে পড়ে।

দেশব্যাপী চলমান শৈত্যপ্রবাহে প্রচণ্ড শীতের কারণে সোমবার সকাল থেকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। জীবিকার তাগিদে যারা রাস্তায় বেরিয়েছেন তাদের প্রায় সকলেরই গায়ে ভারী গরম পোশাক।

winter

শৈত্যপ্রবাহ ও এত শীতেও তিন শিশুর রাস্তায় অবস্থানের কারণ জানতে এ প্রতিবেদককে হেঁটে আসতে দেখেই অপেক্ষাকৃত বয়সে বড় দুটি শিশু দৌড়ে পালিয়ে যায়। ছোট্ট শিশুটির পাশে দাঁড়াতেই একজন নারী ছুটে এসে শিশুটির পাশে দাঁড়ান। শিশুটির নাম শ্রাবন্তী। নারীর নাম পারুল।

শ্রাবন্তীর সঙ্গে সম্পর্ক জানতে চাইলে পারুল নামে ওই নারী জানান, শ্রাবন্তী সম্পর্কে কিছু না হলেও মানবিক কারণে এ সিগন্যালে যারা থাকেন সবাই শিশুটিকে দেখে রাখেন। শিশুটির মায়ের নাম হনুফা। শিশুটিকে সিগন্যালে বসিয়ে রেখে তার মা প্রতিদিন মিন্টু রোডে ভিক্ষা করতে যায়। প্রথম প্রথম কান্নাকাটি করলেও এখন আর শিশুটি কাঁদে না। সিগন্যাল বাতিতে আটকে থাকা গাড়ি থেকে নেমে অনেকেই শিশুটি সম্পর্কে জানতে চায়।

পারুল জানান, সে এই সিগন্যালে ক্যালেন্ডার বিক্রি করে। গুলিস্তান থেকে প্রতি একশ ক্যালেন্ডার তিনশ টাকায় কিনে এনে প্রতি পিস ১০টায় বিক্রি করেন। কিন্তু আজ প্রতিশ’ চারশ টাকা দাম হওয়ায় ক্যালেন্ডার আনেননি।

winter

কিছুক্ষণ আগে পালিয়ে যাওয়া মেয়েটি তার সন্তান বলে জানিয়ে তিনি বলেন, মিছা কথা কমু না, আইজ ইনকাম নাই দেইখ্যা মাইয়ারে ভিক্ষা করতে কইছি। শীতে রাস্তায় কষ্ট হচ্ছে জেনেও ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে মেয়েকে ভিক্ষা করতে নামিয়েছেন। তিনি নিজে ভিক্ষা চাইলে মানুষ টাকা দেয় না কিন্তু তার মাইয়ারে সাহায্য দেয়। তাই তিনি মাঝে মাঝে ক্যালেন্ডার বেচাবিক্রি কম হলে ছোট মাইয়ারে ভিক্ষা করতে নামান।

চলে আসার সময় এ প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে বলেন, গরীবের জীবনের ইতিহাস লেইখ্যা কি অইবো। গরম আর শীতকাল নাই, পেটের ক্ষুধা মেটাতে সব সময় রাস্তায়ই থাকতে হয়।

এমইউ/জেডএ/আইআই