৬৬ বছর পর হাতের নখ কাটলেন তিনি

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০৯ জুন ২০২১ | আপডেট: ০১:৪১ পিএম, ০৯ জুন ২০২১

হাতের নখ বড় করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নাম ওঠান তিনি। ৮৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তির নাম শ্রীধর চিল্লাল। তার বসবাস ভারতের পুনেতে। তিনি দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে তার বাম হাতের নখগুলো এতোটাই বড় করেছেন যে, এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।

তার নখগুলোর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৯০৯.৬ সেন্টিমিটার। তার বৃদ্ধাঙ্গুলির দৈর্ঘ্য ১৯৭.৮ সেন্টিমিটার। ২০১৬ সালে চিল্লাল গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ‘এক হাতে দীর্ঘ নখধারী’ হিসেবে নাম লেখান। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি নখ বড় করা শুরু করেন।

jagonews24

দীর্ঘদিন বাম হাত দিয়ে কাজ না করার কারণে তার হাতটি অবশ হয়ে গেছে। তিনি দীর্ঘ ৬৬ বছর পর ২০১৮ সালে তার হাতের নখগুলো কেটে ফেলেন। বর্তমানে তার নখগুলো নিউ ইয়র্ক জাদুঘরে রাখা আছে।

কেন তিনি হাতের নখ এতো বড় করেছিলেন? গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিল্লাল জানান, ১৯৫২ সালে এক বন্ধুর সঙ্গে গোলমাল করার কারণে ঘটনাক্রমে শিক্ষক থামাতে গেলে তার একটি নখ ভেঙে যায়। শখের বশে নখটি বড় রেখেছিলেন তার শিক্ষক। এরপর চিল্লালকে অনেক অপমানিত হতে হয়।

jagonews24

শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, নখ বড় করার কষ্ট তুমি কোনোদিনও বুঝবে না। সেদিনই চিল্লাল নখ বড় করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না এখনো আমার সেই শিক্ষক বেঁচে আছেন কি-না। তবে শিক্ষককে ভুল প্রমাণ করতেই আমি নখগুলো বড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। টানা ৬৬ বছর ধরে এই নখগুলোকে বিশেষ যত্ন নিয়ে বড় করেছি।

jagonews24

পেশায় চিল্লাল একজন ফটোগ্রাফার। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এক হাত দিয়েই ছবি তুলে আসছেন। সরকারি কৃষি ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফার তিনি। দুই সন্তানের জনক চিল্লালের এখন ৩টি নাতি-নাতনিও আছে।

jagonews24

২০১৮ সালে চিল্লাল তার অতি যত্নের ও পছন্দের নখগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেb, বয়স বেড়েছে, এখন আর আগের মতো নখের যত্ন নিতে পারি না। এ কারণে নখগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যদিও তা আমার জন্য ছিল খুবই কষ্টকর।’

jagonews24

তিনি আরও জানান, ‘নখ বড় করার সময় থেকেই আমি এক হাতে কাজ করার অভ্যাস গড়েছিলাম। সব কাজ এক হাত দিয়েই করতাম। বাম হাত দিয়ে কাজ না করায় এবং নখের ভারে তা ক্রমশ অবশ হতে থাকে। এখনও বাম হাতটি অসাড় অবস্থাতেই আছে। এ হাত দিয়ে কোনো কাজই করতে পারি না।’

জেএমএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]