বিএসএমএমইউর আইসিইউতে চিকিৎসা না পেয়েই কেসপারের মৃত্যু!


প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচারের পর পরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) অত্যাবশ্যক সুচিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই চার বছরের শিশু সাদমান কেসপারের করুণ মৃত্যু হয়েছে!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অস্ত্রোপচারের পর পরই তার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তার বয়সী শিশুর জন্য হাসপাতালে পৃথক কোনো আইসিইউ বেড না থাকায় চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কেসপারকে বাঁচিয়ে রাখতে ভীষণ আন্তরিক থাকলেও এক্ষেত্রে তারা ছিলেন নিরুপায়। দ্বিতীয় দফায় পেটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেসপারের শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। কিন্তু অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইসিইউ সাপোর্ট তারা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। অবস্থার অবনতি হতে থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা কেসপারকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে স্থানান্তর করতে বাধ্য হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেডিকেল বোর্ডের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাগো নিউজকে জানান, বিএসএমএমইউতে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া সম্ভব হলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএমএমইউকে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম বিদ্যাপিঠ দাবি করা হয়। অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক থেকে ১২ বছর বয়সী মুমূর্ষু শিশুদের সুচিকিৎসা দেয়ার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পেডিয়েট্রিকস ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) একটি বেডও নেই!

জানা গেছে, বর্তমানে বিএসএমএমইউতে নবজাতক শিশুদের (এক থেকে আটাশ দিন বয়সী) জন্য ৩১টি ও প্রাপ্ত বয়স্কদের (১২ বছরের ওপরে) জন্য ৩৭টি আইসিইউ ও হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) বেড রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র চিকিৎসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এক থেকে বার বছর বয়সী লাখ লাখ শিশু রয়েছে। দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পেডিয়েট্রিক আইসিইউ’তে একটি বেডও না থাকা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি জানান, নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্কদের আইসিইউ বেডে ও যন্ত্র্রপাতিতে এ বয়সী শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেয়া যায় না। তাদের মুখের মাস্ক ও ভেন্টিলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ভিন্নতা রয়েছে। এ কারণে ৬৮টি আইসিইউ বেড থাকা সত্ত্বেও কেসপারের ভাগ্যে একটি বেডও জুটেনি। তবে মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য দাবি করেন কেসপারকে আইসিইউতে রাখে না হলেও ওয়ার্ডের ভেতরেই আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া হয়েছিল।

বিএসএমএমইউতে পেডিয়েট্রিক আইসিইউ বেড না থাকার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সোমবার বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, ছোট্ট শিশু কেসপারের মৃত্যু খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, তাদের উদ্যোগেই কেসপারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসা হয়েছিল। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসকরা দিনরাত খাটুনি করে গেছেন। গভীর রাতে অস্ত্রোপচার করে রক্তক্ষরণের কারণ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পেডিয়েট্রিক আইসিইউ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কামরুল হাসান বলেন, কেসপারের মৃত্যু পেডিয়েট্রিক আইসিইউ থাকার বিষয়টি নজরে এনেছে। বিগত বছরে এমন মুমূর্ষু কোনো শিশুর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন পড়েনি। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই কমপক্ষে শিশু রোগীদের জন্য পৃথক দুটি আইসিইউ বেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হবে।

৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড প্রধান শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শফিকুল হক সোমবার বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, কেসপারকে বাঁচাতে বিএসএমএমইউ ও সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। এ কথা সত্যি যে পেডিয়েট্রিক আইসিইউ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সাপোর্ট বিএসএমএমইউতে দেয়া যায়নি। তবে দ্রুততম সময়ে তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও দুভার্গ্যবশত তার মৃত্যু হয়।

# অনবরত রক্তক্ষরণ : জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু সাদমান কেসপার
# রক্তরক্ষণ আপাতত বন্ধ : কেসপারের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল
# কেসপারের দেহে সফল অস্ত্রোপচার : আইসিইউ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন!
# শারীরিক অবস্থার অবনতি : কেসপারকে আইসিইউতে স্থানান্তর
# অবশেষে চলে গেলো কেসপার

এমইউ/এসআইএস/একে/আরআইপি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]