সেন্ট্রাল হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্ক ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিশুদের পর এবার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ভর্তি আছেন ১৮ জন রোগী। এর মধ্যে ১৪ জনই প্রাপ্ত বয়স্ক, আর চারজন শিশু।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাগো নিউজকে এ তথ্য জনিয়েছে।

তারা জানায়, গত নয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাটিতে ভর্তি হন ৭৫৭ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন শ্যামলি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. ইমন। তার বাবা বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে মোহাম্মদপুরে টাউন হল এলাকায় মেসে থাকতো। গত শনিবার রাতে হঠাৎ জ্বর আসলে বন্ধুরা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু অপর্যাপ্ত সিট ও কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তাকে নিজ গ্রাম মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও বাধে বিপত্তি। চরম অব্যবস্থাপনা, অবহেলায় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। প্লাটিলেট অনেক কমে আসে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও বলেন, এখানে ভর্তির পর রোগীর অবস্থা উন্নতির দিকে। এখন কিছুটা সুস্থ আছে।

হাসপাতালটিতে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইমন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্লাটিলেট আগের তুলনায় এখন ঠিক আছে। তবে শরীর অনেক দুর্বল। মোহাম্মদপুর এলাকায় অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

jagonews24

সেন্ট্রাল হাসপাতারের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. এটিএম নুজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগীর খুব ভালো চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমাদের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাপ্তবয়স্ক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের এবং শিশুদের শিশু বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আমাদের মেডিসিন বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, ডা. এটিএম নজরুল ইসলামের মতো অনেক ভালো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এই হাসপাতালে ডেঙ্গুর টেস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ডেঙ্গু টেস্ট ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত। ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা করতে ৫০০ টাকা ও সিবিসি পরীক্ষায় ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এখানে।

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেও দিনে প্রায় ৭০ জনের ওপরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকতেন। এখন তা কমে এসেছে অনেক। মাঝখানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন প্রাপ্তবয়স্করা বেশি ভর্তি হচ্ছেন।

হাসপাতালের সিট ভাড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ, এখানে নন-এসি কেবিনের ভাড়া প্রতিদিন চার হাজার ৫০০ টাকা, এসি কেবিনের ভাড়া সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে শুরু। আর ওয়ার্ডগুলোতে সিট ভাড়া দুই হাজার টাকা করে।

তারা জানায়, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক এবং নার্সরা ভর্তি রোগীদের দেখভাল করে থাকেন। ডেঙ্গু ছোঁয়াচে রোগ না হওয়ায় সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রেখে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এএএম/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]