খালেদার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব: বিএমএ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তার এ দাবি করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনার সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এসময়ে দেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীই দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেগম জিয়া বর্তমানে যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে তিনি বা তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে বিদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে পরামর্শ নিতে পারেন। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অন্যত্র স্থানান্তর করা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির আশংকাই বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, যা ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিদানকারী চিকিৎসকরা হলেন- বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএর সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. শফিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. কাজী শহিদুল আলম, বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএমএর ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং বিএসএমএমইউ উপাচার্য ও বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এছাড়া আরও বিবৃতি দিয়েছেন- বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, পিএমের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য রোকেয়া সুলতানা, মোসাদ্দেক আহমেদ, জামাল উদ্দিন খলিফা, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, মমিনুল হক, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সিকদার, ডা. মো. কামরুল হাসান সেলিম, ডা. শেখ মোহাম্মদ শফিউল আজম, ড. শেখ বাহারুল আলম, ডাক্তার মো. মোস্তফা আলম নান্নু, ডাক্তার মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ডাক্তার মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, ডাক্তার মো. মতিউর রহমান ভূঁইয়া, ডাক্তার মো. মুশতাক হোসেন, ডাক্তার নজরুল ইসলাম, ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব সরদার, অধ্যাপক ডা. মো. আবুল হোসেন খান, অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান মিলন, ডাক্তার মো. তারিক মেহেদি পারভেজ, অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিল, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শেখ শহীদ উল্লাহ, অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বাবু, ডা. সোহেল মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. পূরবী রানী দেবনাথ, অধ্যাপক ডা. কাজী শফিকুল আলম, ডাক্তার মোহাম্মদ সেলিম, ডাক্তার মো. আবু রায়হান, অধ্যাপক ড. জহুরুল হক সাচ্চু, অধ্যাপক ডা. মো. আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, অধ্যাপক ডা. মহসিনুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল, ডাক্তার মো. জুলফিকার আলী লেনিন, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ডাক্তার চিত্তরঞ্জন দাস, ডাক্তার হাসানুর রহমান, ডাক্তার মো. বাব্রুল আলম, ডাক্তার নিহার রঞ্জন সরকার, ডাক্তার মো. আহসান হাবীব হেলাল, ডাক্তার মো. মুনিরুজ্জামান সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ডা. অনুপ কুমার সাহা, ডাক্তার কে এম শফিউল্লাহ আলম বাদশা, অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ড. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, ডাক্তার তবিবুর রহমান শেখ, ডক্টর মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া আঙ্গুর, ড. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান, ডাক্তার কাজল কুমার কর্মকার, ডাক্তার হোসেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডাক্তার মো. হারুনুর রশিদ, ডাক্তার পবিত্র কুমার দেবনাথ, ডাক্তার মো. জাবেদ, ডা. মোস্তাক আহমেদ এবং ডাক্তার মো. আলাউদ্দিন।

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২৫ অক্টোবর তার ছোট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর হয় বায়োপসি পরীক্ষা। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে তা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়।

প্রায় এক মাসের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টায় ছাড়পত্র নিয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ ফিরেন বেগম জিয়া। এর ৬ দিনের মাথায় গত ১৩ নভেম্বর রাতে তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।

গতকাল রোববার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ব্রিফ করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস হয়েছে জানান তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। লিভার সিরোসিসের কারণে তার ব্লিডিং হচ্ছে উল্লেখ করে তারা দ্রুত খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেন।

তরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিশেষ প্রয়োজনে বেগম জিয়া বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে তার করোনামুক্তির খবর দেওয়া হয় ৯ মে। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর, সব মিলিয়ে তখন প্রায় পৌনে দুই মাস হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন তিনি। এর মধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকাও নেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যান। করোনা মহামারি, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় গত বছরের মার্চে তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি দেয় সরকার। এরপর কয়েক দফা এ মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এমইউ/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]