কিডনি ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২২
আলোচনায় কিডনির যত্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ/ছবি: জাগো নিউজ

কিডনি রোগ জটিল, কিন্তু তা প্রতিরোধযোগ্য মন্তব্য করে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেছেন, মানবদেহে কিডনি একটি ‘ভাইটাল অর্গান’ (অতিগুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ)। সচেতনতা এবং জীবনযাত্রায় সুস্থধারার চর্চা করে কিডনির রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এজন্য প্রয়োজন শুধু ইচ্ছা, মনোবল, প্রচেষ্টা ও ধৈর্য।

শনিবার (১ জানুয়ারি) অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘স্বাস্থ্যকথা’র তৃতীয় পর্বে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘কিডনির যত্ন’ বিষয়ক এক আলোচনা পরিচালনা করেন সংবাদমাধ্যমটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াউল হক। সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের সহকারী সম্পাদক ড. হারুন রশীদ।

আলোচনা অনুষ্ঠানে জাগো নিউজের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আসিফ আজিজসহ সাংবাদিক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. এম এ সামাদ বলেন, ‘মানবদেহে কিডনি একটি ভাইটাল অর্গান। কিডনির কাজ হচ্ছে শরীরের দূষিত রক্তকে শোধন করা। এছাড়া কিডনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তবে কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। কিডনি রোগের কারণে অনেক মানুষ মারা যায়। কিডনির সমস্যা হয়েছে শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়। কিন্তু সচেতনতা অবলম্বন করেই এটাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া ৭৫ শতাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তার কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে। যখন কিডনি বিকল হয়ে যায়, তখন বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় কিডনি সংযোজন অথবা ডায়ালাইসিস। অন্যদিকে কিডনি রোগের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে, এদেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকেরও সাধ্য নেই এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার। তবে, শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সুস্থধারার জীবনযাত্রা চর্চার মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

jagonews24আলোচনায় কিডনির যত্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ/ছবি: জাগো নিউজ

যেসব কারণে কিডনি রোগ হয়
এই বিশেষজ্ঞ তার বক্তব্যে কিডনি রোগের কিছু কারণ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ভেজাল খাদ্য ও কীটনাশক যুক্ত খাবার খেলে, ধূমপান ও মাদক সেবন করলে, অনিয়ন্ত্রিত বেদনানাশক ওষুধ বা যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে, পানিশূন্যতা, অতি বমি, ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ থাকলে, বংশগত কিডনি রোগ থাকলে, প্রস্রাবে সংক্রমণ ও প্রদাহে বাধাজনিত সমস্যা থাকলে, অলস জীবনযাপন করলে, কিডনি প্রদাহ হলে বা পাথর থাকলে এই রোগ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন হলে এবং বয়স চল্লিশের ঊর্ধ্বে হলে কিডনিরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।

কিডনি রোগের লক্ষণ
কিডনি রোগের লক্ষণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুধামন্দা বা বমিবমি ভাব হওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ। এছাড়া রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা অনুভব, প্রস্রাবের সময় জ্বালা পোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব লাল হওয়া, প্রস্রাবে ফেনা হওয়া বা প্রস্রাব করতে না পারা, বিনা কারণে গা চুলকানো, মেরুদণ্ডের দু’পাশে, তলপেটে অথবা মূত্রনালিতে ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, প্রস্রাবে পাথর যাওয়া, প্রোটিন বা আমিষ যাওয়া, চোখের পাতা বা ফুলে যাওয়া, ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া, গায়ের রং কালচে হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়াও কিডনি রোগের লক্ষণ।

কিডনি ভালো রাখতে যা যা করবেন
আলোচনায় কিডনি ভালো রাখতে কিছু পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম এ সামাদ। সেগুলো হলো-
১. কায়িক পরিশ্রম, খেলাধুলা ও নিয়মিত ব্যায়াম করা। কমপক্ষে ৩০ মিনিট সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন জোরে হাঁটা।
২. ধূমপান ও মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা।
৩. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, যাতে প্রতিদিন শাক-সবজি ও ফল থাকে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ফাস্টফুড পরিহার করা।
৫. পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা।
৬. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করা।
৭. ব্যথার ওষুধ খেলে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান করা।
৮. উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা।
৯. পরিচ্ছন্ন থাকা, খাবার পূর্বে হাত ধোয়া।
১০. খোস-পাঁচড়া ও গলা ব্যথায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করা।
১১. এবং নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।

এমআইএস/এইচএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।