আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের উত্তেজনা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ‘ঢাকা বার সাধারণ আইনজীবী’ ব্যানারে কয়েকজন আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।
এদিন দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। মানববন্ধনে অংশ নিতে তাকে আহ্বান জানান আয়োজক আইনজীবীরা। পরে আদালতে হাজিরা শেষে তিনি সংহতি প্রকাশ করে কিছু সময় মানববন্ধনে অবস্থান করেন।
মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি দলে দাঁড়িয়ে ছিলেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। এসময় বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী এসে এ ধরনের কর্মসূচি না করতে বলে তাদের সরে যেতে বলেন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবী জাকির হাসান জুয়েল গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কয়েকজন আইনজীবী আদালতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ আইনজীবীরা বাধা দিলে তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের দিন আদালত এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে কেন্দ্র করে আদালতের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চলছে।
তবে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হামের টিকায় গাফিলতি এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে আদালতে হাজিরা দিতে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেন আনিস আলমগীর। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদায়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুলের সমালোচনা করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতীতে তাকে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন দুদকের মামলায় আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার অনুমতির আবেদনও মঞ্জুর করা হয়।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর ১১ মার্চ তিনি জামিন পান।
এমডিএএ/এমএমকে