বিশেষজ্ঞদের মত

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষায় আইন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২২

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কাজি অফিসে বিয়ে পড়ানোর আগে রক্ত পরীক্ষার ব্যাবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এটি নিশ্চিতে আইন পাস করতে হবে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজে ভর্তির আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। দুশ থেকে তিনশ টাকা হলে হিমোগ্লোবিন ও রক্ত পরীক্ষাসহ থ্যালাসামিয়ার স্ক্রিনিং করা যাবে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অডিটরিয়ামে ‘থ্যালাসেমিয়া এন ইমার্জিং ন্যাশনাল হেলথ ইস্যু: ওয়ে টু মিনিফাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগে স্ক্রিনিংয়ের (শনাক্তকরণ) পরিকল্পনা করছে সরকার। এজন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশানুক্রমিক রোগ। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়াও প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার নতুন শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগের জীনসহ জন্মগ্রহণ করে থাকে। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী অন্যটি থ্যালাসেমিয়ার বাহক। যারা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী তাদের প্রতি মাসেই দুবার রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। তারা সারাজীবন এ রোগ বহন করে। এদের অনেকেই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় মারা যান।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষায় আইন জরুরি

চিকিৎসকরা বলেন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন করে এদের চিকিৎসা করা হলে সুস্থ করার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এ দেশে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন একটি জটিল প্রক্রিয়া, ব্যয়বহুল এবং অপ্রতুল। অন্যদিকে যারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক তারা এ রোগ বহন করেন এবং আরেকজন বাহককে বিয়ে করলে তাদের সন্তানদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি একজন নরমাল ব্যক্তিকে (ক্যারিয়ার নয়) বিয়ে করে তবে তাদের সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কাজেই সমাজের সর্বস্তরে এ রোগের ব্যাপকতা এবং একজন বাহক যাতে অন্য একজন বাহককে বিয়ে না করে সেটার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় ১০ ভাগ লোক থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত। বিয়ের আগে যদি পরীক্ষার মাধ্যমে নবদম্পত্তি ঠিক করা হয় তাহলে এটা কমানো সম্ভব। এ জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা লাগে তা আমরা দেব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। আমরা যদি বাহকদের মধে বিয়ে বন্ধ করতে পারি তাহলেই দেশ থেকে রোগ নির্মূল করা সম্ভব। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে। প্রয়োজনে থ্যালাসেমিয়া সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ আইন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং রোগী ও পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক। আমরা আমাদের সচেতনতার মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি পেতে পারি।

এএএম/এমআইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।