এখন জনগণের পাওনা পরিশোধের সময়, নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আপনারা (চিকিৎসক) খুবই ব্যয়বহুল শিক্ষা নিয়েছেন। পাশের দেশে একজনকে চিকিৎসক হতে হলে এক কোটির বেশি রুপি খরচ হয়। আপনারা যারা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেছেন, কয় টাকা ব্যয় করেছেন? এ জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হবে। জনগণের টাকায় লেখাপড়া করেছেন। এখন তা পরিশোধের সময়। এখন আপনাদের তা বাংলাদেশকে দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’

রোববার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে ১০৬ চিকিৎসক কর্মকর্তার যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। চিকিৎসকরা যদি ভুল করেন, তাহলে রোগী মারা যান। অর্থাৎ চিকিৎসকরা ভুল করলে তার সংশোধনের সুযোগ নেই।’

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। হাসপাতালে যেমন যন্ত্রপাতি আছে, তেমনি অবকাঠামো খুব সুন্দর হয়েছে। অক্সিজেন আছে। এখন কেবল চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ধরেন এক ব্যক্তি তার মুমূর্ষু বাবা কিংবা মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন, কিন্তু গিয়ে দেখেন চিকিৎসক নেই। তখন তার মনের অবস্থা কী হবে। আর যাওয়ার পর যদি ওই মুমূর্ষু বাবা কিংবা মা মারা যান, তাহলে তার মনের অবস্থা কী হবে! তখন আপনাদের আমরা কীভাবে নিরাপত্তা দেবো?

সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক চিকিৎসকের নিরাপত্তা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে। অনেকেই কাজ করি। কিন্তু চিকিৎসকদের কাজটা খুবই স্পর্শকাতর। নিরাপত্তা অবশ্যই দরকার, কিন্তু আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যেখানে আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে দামি ও অসাধারণ যন্ত্রপাতি পড়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, যত্নের অভাবে এগুলো নষ্ট হয়। তা ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালে এসব যন্ত্রপাতি ১০ বছর চললেও সরকারি হাসপাতালে তা দুই বছর চলে না। এটির ব্যাখ্যা কি? অঙ্গীকার ও সততার অভাব।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘কর্মস্থলে গেলে সবকিছু মন মতো হবে না। কাজেই নিজের অবস্থান নিজেকেই তৈরি করতে হবে। আমরা চাই দরিদ্র মানুষ যারা আছেন, তাদের আপনারা একটু ভালো সেবা দেবেন। এর চেয়ে ভালো সেবা দেওয়ার সুযোগ আর নেই। সবচেয়ে উত্তম ধর্ম, উত্তম ইবাদত হচ্ছে মানুষের সেবা। সবাই মানুষের সেবা করেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতো কেউ পারেন না। দুই জায়গায় শপথ নিতে হয়, একটি চিকিৎসকদের আরেকটি আইনপ্রণেতাদের। আমরা শপথ ভাঙতে চাই না।’

আরএমএম/এমএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।