অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস/ ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন দমন অভিযান চলাকালে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তা। নিহত ওই নারীর নাম রেনি নিকোল গুড, বয়স ৩৭ বছর। এ ঘটনার পর শহরজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে আইসিই কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র ও সিটি কাউন্সিল এই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। মেয়রের ভাষ্য, গুলি চালানো কর্মকর্তা ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি আবাসিক সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাঢ় লাল রঙের এসইউভি ঘিরে ফেলেন আইসিই এজেন্টরা। গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর চালক গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক কর্মকর্তা সামনে দাঁড়িয়ে বন্দুক তাক করেন এবং অন্তত দুটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে পার্ক করা একটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, একজন আইসিই কর্মকর্তা ‘নির্মমভাবে’ গাড়িচাপায় আহত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘র‌্যাডিক্যাল লেফট’ প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইসিই সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী ক্রিস্টি নোম বলেছেন, নিহত নারী দিনভর কর্মকর্তাদের ‘বাধা দিচ্ছিলেন’ এবং গাড়িকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করে একজন কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। তিনি একে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেন। নোম জানান, গুলি চালানো কর্মকর্তা আহত হলেও পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রেনি গুড কেবল তার প্রতিবেশীদের সহায়তা করছিলেন। কাউন্সিলের দাবি, পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এমিলি হেলার সিএনএনকে বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, একজন কর্মকর্তা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ‘থামো’ বলে চিৎকার করার পর খুব কাছ থেকে চালককে গুলি করেন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ ফেডারেল সরকারের বক্তব্যকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এ ঘটনার ‘পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত’ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিইকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, ঘটনাস্থলটি ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জায়গা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে, যা বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছিল।

মিনিয়াপোলিস পাবলিক স্কুলস নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে সপ্তাহের বাকি সময়ের জন্য পাঠদান বাতিল ঘোষণা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বুধবার একটি হাইস্কুলের বাইরে ফেডারেল এজেন্টরা গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছিলেন।

মিনিয়াপোলিসে কেন আইসিই অভিযান

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মিনেসোটায় কল্যাণভিত্তিক তহবিল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ কারণ দেখিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিনিয়াপোলিস এলাকায় অতিরিক্ত দুই হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়।

মেয়রের অভিযোগ, এই অভিযান শহরের নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে পরিবার ভাঙছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিসের সোমালি সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার এই সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যার জেরে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

মিনিয়াপোলিস ছাড়াও নিউ অরলিন্স, মায়ামি, সিয়াটল ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।