ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারে মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প
চলমান আন্দোলন দমনে ইরানে টানা চার দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, এ ধরনের কাজে তিনি (মাস্ক) খুব দক্ষ। তার একটি অসাধারণ কোম্পানি আছে। প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে ব্যবহৃত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক নিয়ে মাস্কের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।
তবে স্পেসএক্স ও মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার(৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের তথ্য প্রকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০২২ সালের পর এটিই দেশটির ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে উত্থান পতন হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ইলন মাস্ক আর্থিক সহায়তা দিলেও পরবর্তী সময়ে কর আইন নিয়ে বিরোধে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সম্প্রতি আবার ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাদের মার-আ-লাগো রিসোর্টে একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা গেছে এবং সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
মাস্ক ২০২২ সালের বিক্ষোভের সময়ও ইরানিদের সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ এড়াতে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখনকার আন্দোলনের সময় বাইডেন প্রশাসন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানে স্টারলিংক চালুর বিষয়ে সহযোগিতা করে।
জানা গেছে, স্টারলিংক সেবা ইউক্রেনসহ সংঘাতকবলিত অন্যান্য অঞ্চলেও ব্যবহৃত হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারনে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তা শুরু হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী এ আন্দোলবে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
কেএম