যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও দানা বাঁধছে আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের সাজ্জাদ বিশ্ববিদ্যালয়/ ছবি: সামাজিক মাধ্যম

সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ শেষ হলেও ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও দানা বাঁধছে আন্দোলন। ইরানের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে বিক্ষোভে নেমেছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারির শুরুতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিক্ষোভ দমনের কৌশল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয় খামেনি প্রশাসন।

পুনরায় সরাসরি ক্লাস শুরু হওয়ায় আবার ঘনীভূত হচ্ছে ক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জানুয়ারির সহিংস দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণসভা রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য প্রতিবাদে। তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচি কখনও কখনও সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সমাবেশগুলোতে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এই বিক্ষোভে ইরানের উৎখাত হওয়া শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা শাহ পাহলভীর নাম উচ্চারিত হয়েছে। ইরানের ‘বিপ্লবের নেতা’ হিসেবে তার নাম নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি উঠেছে।

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন-‘এই ফুল ঝরে গেছে, মাতৃভূমির জন্য উপহার/ নারী, জীবন, স্বাধীনতা/ সহযোদ্ধাদের রক্তের শপথ, শেষ পর্যন্ত লড়ব।’

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারপন্থী ও বিরোধী শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সরকারপন্থীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থনে স্লোগান দেন, আল্লাহু আকবর ও আমেরিকার মৃত্যু ধ্বনি তোলেন এবং দাঙ্গাবাজদের বহিষ্কারের দাবি জানান।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রেজা মোহাম্মদি আলির স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ গোষ্ঠীর অভিযোগ, বাসিজ ছাত্রসংগঠন অনুষ্ঠানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং দাবি করে নিহত শিক্ষার্থী সরকারপন্থি ছিলেন।

বিক্ষোভকারীদের কেও কেও ইরানে ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত নাম পুনর্বহালের দাবিও তুলেছেন।

ইরানে ২০০০ সালের এক আইনে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সামরিক, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ ও অভিযান চালানো নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে হামলার ঘটনার পর এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার এই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।