কিউবায় তেল বিক্রি করা দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: এএফপি

কিউবায় তেল বিক্রি করা যে কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কমিউনিস্টশাসিত দ্বীপটির ওপর চাপ আরও বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাক্ষরিত আদেশে শুল্কের পরিমাণ বা কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করা হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এসব সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন।

১৯৬২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে থাকা কিউবা বেশিরভাগ তেল পেতো ভেনেজুয়েলা থেকে। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেই প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ভেনেজুয়েলা অভিযান শুরুর পর ট্রাম্প হুমকি দেন, কিউবার দিকে যাবতীয় তেল ও অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি করাই ভালো, দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই। তবে ওয়াশিংটন ঠিক কোন ধরনের চুক্তি কিউবার সঙ্গে করতে চায়, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক্সে পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘কিউবা ও তার জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কিউবার মানুষ ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের দীর্ঘতম ও নিষ্ঠুরতম অর্থনৈতিক অবরোধ সহ্য করছে।

ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বলা হয়েছে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিউবায় তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে এমন যে কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই পদক্ষেপে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কিউবার সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অসাধারণ হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইইইপিএ’র আওতায় আরোপিত অন্য শুল্কগুলো বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

কিউবার বিরুদ্ধে জারি করা ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশ ও গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে- ঠিক যেমন অভিযোগ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধেও তোলা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, কিউবার সরকার রাশিয়া, চীন, ইরানসহ হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘সহায়তা ও সমর্থন’ দেয়।

এমন সময় এই চাপ বাড়ানো হলো যখন কিউবা কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধের সংকট চলছে, যার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছে।

মার্কিন প্রতিবেশী মেক্সিকো কিউবার বড় তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের চাপের মুখে সরবরাহ কমতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে বলেন, মেক্সিকো কিউবার সঙ্গে ‘সংহতি’ অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।