কলকাতা

বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র ঢেলে সাজানো হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র ঢেলে সাজানো হয়েছে

কলকাতার পার্ক সার্কাস মোড়ে ৩ নম্বর সোহরাওয়ার্দি এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র ঢেলে সাজানো হয়েছে। একদিকে যেমন পাঠক-পাঠিকা ও গ্রন্থাগার কর্মীদের সুবিধার জন্য একাধিক কর্নার খোলা হয়েছে, ঠিক তেমনি এই গ্রন্থাগারের বাইরে একটি নতুন ডিজিটাল সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এটি গ্রন্থাগারর বাহ্যিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।

শনি ও রোববার ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে সপ্তাহের বাকি পাঁচদিন (সোম থেকে শুক্রবার) ওই গ্রন্থাগার পাঠকদের জন্য খোলা থাকে। ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গ্রন্থাগারের ভেতর নির্দিষ্ট আসনে বসে নিজেদের পছন্দের বই সংগ্রহ করে তা পড়তে পারেন পাঠকরা। পাশাপাশি গবেষণা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে নির্দিষ্ট বইয়ের অংশ বিশেষ ফটোকপি করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এই গ্রন্থাগারে।

বাংলাদেশ গ্রন্থাগারে বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাপিডিয়া, কবি ও কবিতা, মুক্তিযুদ্ধ, নাটক, সাহিত্য, শিশু-কিশোর, সঙ্গীত, অনুবাদ, রচনাবলী, কৃষি ও পরিবেশ, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, খেলাধুলা, আইন, দর্শন, ধর্ম, রবীন্দ্র-নজরুল, মনীষীদের জীবনী, চলচ্চিত্র নারী, ভাষা, উপন্যাস, গল্প, ইংলিশ বই, ইংরেজি থেকে অনুবাদ এবং রাজনৈতিক বই। কিন্তু এতদিন এই বইগুলো ক্রমানুসারে সাজানো ছিল না বলে জানা গেছে। ফলে পাঠকদের পছন্দের বই খুঁজে পেতে বেশ সমস্যা হতো।

কিন্তু কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে প্রেস সচিবের দায়িত্ব নিয়ে আসার পরই এই দিকে মনযোগ দিয়েছেন তারেক চয়ন। যার মধ্যে অন্যতম বিভিন্ন শ্রেণীর বইয়ের সম্ভারকে ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেওয়া। অর্থাৎ শিশুদের জন্য কর্ণার, বাংলাদেশ কর্ণার, রবীন্দ্র-নজরুল কর্ণার। তবে এর সবটাই এখনও পর্যন্ত আন্যালগ পদ্ধিতে করা রয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো প্রক্রিয়াটি ‘ডিজিটালাইজেশন’ করার ওপর জোর দিতে চান প্রেস সচিব।

এই গ্রন্থাগারটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কিত বেশ কিছু বইয়ের অন্তর্ভুক্তি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও কৌশল, ২. খালেদা জিয়া হার লাইফ, হার স্টোরি, ৩. বেগম খালেদা জিয়া জীবন ও সংগ্রাম, ৪. খালেদা ৫. বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন দেশনেত্রীর প্রতিকৃতি, ৬. রাজবন্দীর জবানবন্দী (আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথম সংস্করণ বাজেয়াপ্ত), ৭. প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, ৮. জিয়াউর রহমান: দর্শন ও বিপ্লব প্রমুখ।

তারেক চয়ন বলেন, আমাদের এখানে যে ১৫ থেকে ২০ হাজার বইয়ের অস্তিত্ব ছিল, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাটাই আমাদের জানা ছিল না। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রন্থাগার, গোডাউন এবং অন্য জায়গায় থাকা সব বই গণনা করে বইয়ের প্রকৃত সংখ্যাটা একটা ধারণার মধ্যে আনার কাজ করা হয়েছে। এছাড়া আর একটি বড় কাজ ছিল বইগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করা। নিজের সীমাবদ্ধতার পরেও আমি চেষ্টা করেছি নির্দিষ্ট বইটিকে নির্দিষ্ট তাকে রাখতে।

এর পাশাপাশি অবকাঠামোগত একটি পরিবর্তনও আনা হয়েছে। গ্রন্থাগারের বাইরের দেওয়ালে আগের যে সাইনবোর্ডটি ছিল সেটাকে পরিবর্তন করে ডিজিটাল রূপ দেওয়া হয়েছে।

তার মতে, আগে এই গ্রন্থাগারে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে একটি পরিবারের কিছু বই রাখা ছিল। ভিন্ন রাজনৈতিক মনোভাবাপন্ন কিছু বই থাকলেও সেগুলোকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন পাঠকদের কাছ থেকেই আমি এই বিষয়টি জানতে পারি। আমার মনে হয়েছিল যে অন্য দেশে আমাদের বাংলাদেশের যে গ্রন্থাগার রয়েছে সেখানে ওই দেশের মানুষ বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা পরিবারের সম্পর্কে জানতে চাইবে তা নয়! তারা সকল রাজনৈতিক রাজনৈতিক দল বা সমস্ত পরিবারের সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক। সেই জায়গা থেকেই আমি চেষ্টা করেছি একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত বই রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের মা বলা হয় কিন্তু তার কোনো বই এই গ্রন্থাগারে রাখা ছিল না। আমি মনে করেছিলাম তার বই রাখাটা আমার সর্বপ্রথম কাজ এবং আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কিছু বই সংগ্রহ করেছি। যারা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছেন তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু বই পেতে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কর্তৃপক্ষও বেশ কিছু বই আমাদেরকে দিয়ে সহায়তা করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বই রাখা হবে কি না, এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব জানান, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন জায়গার মানুষ ও পাঠক কি চায় তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। তাদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে খালেদা জিয়াকে জানা এবং পড়া। তাদের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়ার বেশ কিছু বই আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি। উনাকে দিয়ে শুরুটা করা হয়েছে আগামী দিনে হয়তো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান বা অন্য কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বইও স্থান পাবে।

ডিডি/টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।