তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগুচ্ছে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই তথ্য জানান।

আলী লারিজানি পোস্টে লিখেছেন, গণমাধ্যমের সৃষ্ট ‘মিথ্যা যুদ্ধাবস্থার’ বিপরীতে আলোচনার কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আলোচনার এই সম্ভাব্য ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সামরিক পদক্ষেপের মুখে না পড়ে চুক্তি করতে চায় বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, দেখি আমরা কিছু করতে পারি কি না; না পারলে যা হওয়ার হবে। আমাদের বিশাল নৌবহর সেখানে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, তারা (ইরান) আলোচনায় বসছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানবিরোধী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপের জেরে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি বাড়তেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরীকে নেতৃত্বে রেখে একটি নৌ-বহর ইরানের দিকে পাঠিয়েছে। বিষয়টি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তারা আগ্রহী, তবে ট্রাম্পকে হামলার হুমকি বন্ধ করতে হবে।

এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় না বসলে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো যুদ্ধজাহাজগুলো প্রয়োজনে ‘সহিংসতা প্রয়োগে প্রস্তুত’।

পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত নাজুক’

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার তোহিদ আসাদি জানান, পরিস্থিতি এখনো ‘খুবই নাজুক ও সূক্ষ্ম’। তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়ে লারিজানির শনিবারের মন্তব্যকে একটি ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সিরিজ কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মহড়া নিয়ে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র

শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌমহড়া পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা জারি করে।

সেন্টকম জানায়, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি কোনো অনিরাপদ বা অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের উপকূলে কার্যরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের ভূখণ্ডে মহড়া চালাবে, সেই নির্দেশ দিতে চাইছে।

আরাগচি আরও লেখেন, যে একই মার্কিন সরকার আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেই সরকারই আবার সেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সামরিক মহড়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘পেশাদারিত্ব’ দাবি করছে!

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে।

আরাগচি বলেন, এই অঞ্চলে বাইরের শক্তির উপস্থিতি বরাবরই উত্তেজনা প্রশমনের বদলে বাড়িয়েছে।

 

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।