ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তুরস্কে গ্রেফতার ২
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তুরস্কে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন মেহমেত বুদাক দেরিয়া ও ভেইসেল কেরিমওগ্লু। তারা ইস্তাম্বুলে আটক হন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা তুরস্কের এমআইটি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন।
সূত্র মতে, খনি প্রকৌশলী দেরিয়া ২০০৫ সালে দক্ষিণ উপকূলীয় শহর মারসিনের কাছে একটি মার্বেল খনি চালু করার পর বিদেশে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১২ সালে আলি আহমেদ ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথম মোসাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জানান, ইয়াসিন একটি ইসরায়েলি ছদ্ম কোম্পানি পরিচালনা করতেন। ২০১৩ সালে তিনি দেরিয়াকে ইউরোপে একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান, যেখানে দেরিয়ার প্রথমবারের মতো মোসাদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই বৈঠকে মার্বেল ব্যবসা নিয়ে আলোচনা হয় এবং দেরিয়াকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তুর্কি নাগরিক ভেইসেল কেরিমওগ্লুকে নিয়োগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং তারা মোসাদকে বিভিন্ন তথ্য দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। সূত্র জানায়, কেরিমওগ্লুর বেতনও মোসাদ দিতো।
এ ছাড়া তারা গাজায় ভবন বা স্থাপনা কেনার জন্য পাঠানো কারিগরি তথ্য ও ছবি মোসাদকে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীরা আরও জানান, ২০১৬ সালের শুরুতে কেরিমওগ্লু দেরিয়াকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবসা শুরু করার প্রস্তাব দেন। সে সময় দেরিয়ার সঙ্গে মোহাম্মদ জুয়ারির যোগাযোগ হয়, যিনি ওই বছর তিউনিসিয়ায় নিহত হন। তদন্তকারীদের মতে, তাকে মোসাদ হত্যা করেছিল।
মোহাম্মদ জুয়ারি ছিলেন ফিলিস্তিনি হামাস আন্দোলনের জন্য ড্রোন উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ একজন প্রকৌশলী। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স শহরে নিজের গাড়ির ভেতর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত বছর তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিউনিসিয়ার একটি আদালত অনুপস্থিত অবস্থায় ১৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে।
সূত্র জানায়, দেরিয়া এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রকদের কাছে তথ্য পাঠাতেন এবং ২০১৬ ও ২০২৪ সালে দুই দফা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষায় অংশ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দেরিয়া এমন একটি কোম্পানি গঠনের চেষ্টা করছিলেন, যা তিনটি এশীয় ছদ্ম কোম্পানির কার্যক্রম তদারকি করবে। এসব কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল মোসাদের নজরভুক্ত ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা পণ্যের প্রকৃত উৎস গোপন রাখা।
এই পরিকল্পনা চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের সর্বশেষ বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে দুই সন্দেহভাজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম