মোদীকে নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডানে) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করছেন/ ১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে তোলা ছবি/এএফপি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সাথে নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন জোট গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্য বা এর আশপাশের মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে এই জোট গড়ে তোলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। তিনি জানান, মোদীর দেশ ভারতও সেই দেশগুলোর অংশ হবে, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে ‘একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।’

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু গ্রিস, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশের কথাও উল্লেখ করেন। তবে সেসব দেশের নাম স্পষ্ট করেননি।

নেতানিয়াহু বলেন, তার পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে বা এর ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ জোটব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। মূলত একটি ‘হেক্সাগন’ বা ছয় কোণবিশিষ্ট জোট কাঠামো তৈরি করার কথা বলেন তিনি।

তার ভাষায়, বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য সম্পর্কে যেসব দেশের দৃষ্টিভঙ্গি এক, তাদের নিয়ে একটি অক্ষ বা জোট গঠন করা হবে। এই জোট দাঁড়াবে ‘উগ্র অক্ষের’ বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে ‘উগ্র শিয়া অক্ষ’ ও ‘উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষ।’ শিয়া অক্ষে ইসরায়েল এরই মধ্যে কঠোর আঘাত হেনেছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর মোদী এক্সে লেখেন- আস্থা, উদ্ভাবন, শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে ভারত গভীরভাবে মূল্য দেয়।

তবে, ‘উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষ’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নেতানিয়াহু ব্যাখ্যা করেননি। তবে এর আগে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে এই অক্ষের প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। গাজায় রক্তপাতের ঘটনায় সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন। সৌদি আরবও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে।

ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইসরায়েলি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সংযুক্তিকরণমুখী পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছে তারা।

এদিকে, ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের’ অংশ হিসেবে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক অবস্থান শক্ত করা। এই কাঠামোর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে ইসরায়েল।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির হামলায় ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহও রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।