বাণিজ্য সমঝোতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজের সংকট চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চীনের একটি বন্দর। ছবি: এএফপি (ফাইল)

বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিরল খনিজের (রেয়ার আর্থ) সংকট আরও বাড়ছে বলে শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেইজিংয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই ইস্যুটি সেখানে আলোচনায় উঠতে পারে।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইট্রিয়াম ও স্ক্যান্ডিয়ামের মতো বিরল খনিজ। ১৭টি রেয়ার আর্থ উপাদানের অন্তর্ভুক্ত এই উপাদানগুলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিমান ইঞ্জিন এবং চিপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খনিজের উৎপাদনের প্রায় পুরোটা চীনের ওপর নির্ভরশীল।

চীন গত এপ্রিলে রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা শিথিল করলেও মার্কিন বাজারে সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। চীনের শুল্ক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের চালান খুবই সীমিত।

ইট্রিয়াম ব্যবহার করা হয় এমন বিশেষ আবরণে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ইঞ্জিন ও টারবাইনকে গলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত এই আবরণ ব্যবহার না করলে ইঞ্জিন চালানো সম্ভব হয় না।

গত নভেম্বর থেকে ইট্রিয়ামের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় দাম এখন প্রায় ৬৯ গুণ বেশি। কিছু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এখন সরবরাহ সীমিত করে বড় গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

উত্তর আমেরিকার দুটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কাঁচামালের অভাবে তাদের সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান ছোট ও বিদেশি গ্রাহকদের সরবরাহ বন্ধ করে বড় গ্রাহকদের জন্য মজুত ধরে রাখছে।

আরেকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইট্রিয়াম অক্সাইড শেষ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে।

তবে এখনো পর্যন্ত জেট ইঞ্জিন বা চিপ উৎপাদনে সরাসরি বড় প্রভাব পড়েনি। এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু নির্মাতা এরই মধ্যে চীন থেকে আসা নির্দিষ্ট কিছু বিরল খনিজের ঘাটতির মুখে পড়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরবর্তী আট মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৭ টন ইট্রিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। নিয়ন্ত্রণের আগের আট মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩৩৩ টন।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ট্রাম্প-শি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি শিথিল করার বিষয়টি অন্যতম আলোচ্য ইস্যু হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।