হরমুজ সংকটে তেলের ঘাটতি এশিয়ায়, ঝুঁকিতে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী/ ফাইল ছবি: এএফপি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট ধাপে ধাপে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রথম ধাক্কা এরই মধ্যে এশিয়ায় অনুভূত হচ্ছে।

সাধারণত পারস্য উপসাগর থেকে তেলের চালান প্রথমে এশিয়ায় পৌঁছায় ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে। এরপর তা ইউরোপ ও আফ্রিকায় পৌঁছাতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩৫ দিন, এবং সর্বশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় ৩৫ থেকে ৪৫ দিনে।

প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে তেল রপ্তানি মাসিক হিসাবে প্রায় ৪১ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরাসরি জ্বালানির ঘাটতি।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এই সংকট শিগগিরই অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে। আফ্রিকায় এপ্রিলের শুরুতেই প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে কেনিয়ায় খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যদিও তানজানিয়ায় এখনো পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখতে পেরেছে।

অন্যদিকে ইউরোপ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে চাপে পড়তে পারে। যদিও বিকল্প উৎস ও মজুত থাকায় তারা কিছুটা সময় পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবশেষে প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির নিজস্ব তেল উৎপাদন থাকায় তাৎক্ষণিক ঘাটতির আশঙ্কা কম, তবে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।