আশা ভোঁসলের কথা শুনেই জীবনের সেরা সাফল্য পেয়েছেন রেখা
বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু গল্প আছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। তেমনই এক ঘটনা জড়িয়ে আছে আশা ভোঁসলে ও অভিনেত্রী রেখার নামের সঙ্গে।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ভালো গানের জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে আশা ভোঁসলেকে। সে সময় লতা মঙ্গেশকর, নূরজাহান, শামশাদ বেগম ও গীতা দত্তদের গান তুমুল জনপ্রিয়। তাদের চাহিদাও তুঙ্গে। তারা গাওয়ার পর যে গানগুলো বাকি থাকতো মূলত সেগুলোই গাইতে হতো আশা ভোঁসলেকে।
পারিশ্রমিকও জুটতো অনেক কম। লতার পারিশ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশই পেতেন আশা। এ নিয়ে কখনো তিনি মন খারাপ করেননি। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন নিজের মেধা ও যোগ্যতার সবটুকু ঢেলে দিয়ে।
নিজেকে তিনি স্বকীয়তায় মেলে ধরেছিলেন। অল্প দিনেই তিনি হয়ে উঠলেন নিজেই নিজের বিকল্প। তার সুর ও গায়কীর চাহিদা ভারতবর্ষজুড়ে বেড়ে গেল। বলা চলে, এই শুরুতে অবহেলিতা হওয়ার অভিজ্ঞতাই তাকে ভালো গান চিনতে ও মূল্য দিতে শিখিয়েছিল।
এই কারণেই কম বাজেটের হলেও ‘উমরাও জান’ সিনেমার গান শুনে এক মুহূর্ত দেরি না করে রাজি হয়ে যান তিনি। ছবির পরিচালক মুজাফফর আলি প্রথমে আশঙ্কায় ছিলেন। কারণ তিনি হয়তো আশা ভোঁসলের পারিশ্রমিক দিতে পারবেন না। কিন্তু আশার কাছে টাকার চেয়ে ভালো গানই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছবিতে গান গেয়ে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
শুধু তাই নয়, তার অনুরোধেই বাজেটের কারণে প্রথমে ছবিটি ফিরিয়ে দিলেও পরে অভিনয় করেন অভিনেত্রী রেখা। তিনিও পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
পরিচালক চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখাকে নিতে। কিন্তু পারিশ্রমিকের কারণে আগ্রহ দেখাননি অভিনেত্রী। তখনই আশা ভোঁসলে সরাসরি ফোন করেন রেখাকে এবং বলেন, ‘এই ছবির গল্প ও গান অসাধারণ, তোমার এতে অভিনয় করা উচিত।’
আশার এই কথাতেই রাজি হয়ে যান রেখা। আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ‘উমরাও জান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জিতে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এটিই এখন পর্যন্ত তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। আর এই ছবিটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সিনেমা হিসেবে অভিহিত করেন রেখা।
আজ আশা ভোঁসলের প্রয়াণে নিশ্চয়ই কাঁদছে পর্দার উমরাও জানের মন!
এলআইএ