ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকি ‘অত্যন্ত হাস্যকর’: শাহরাম ইরানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: প্রেস টিভি

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ অবরোধ আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও বিদ্রুপাত্মক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানি সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নৌবাহিনীর সাহসী সদস্যরা এ অঞ্চলে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব ধরনের চলাচল অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করছে।’

তিনি আরও বলেন, চাপিয়ে দেওয়া তৃতীয় যুদ্ধে তার বাহিনীর অপমানজনক পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি অত্যন্ত হাস্যকর ও বিদ্রুপাত্মক।

রোববার (১৩ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি একটি কৌশলগত জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে যে, এই প্রণালি কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।

গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এই আলোচনা ব্যর্থ হবার পর ইরান ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে একের পর বেফাঁস মন্তব্য করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে আরও বলেন, কোনো জাহাজ যদি ইরানকে টোল প্রদান করে তবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হবে।

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এই জলপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

তেহরান মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচল অনুমোদন দিলেও আগ্রাসী দেশ ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট জাতীয় মুদ্রায় ট্রানজিট ফি আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জাহাজ সরাসরি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি খসড়া আইন এগিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।

সূত্র: প্রেস টিভি

কে এম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।