ইউক্রেন ইস্যু
‘ঋণ’ ও ‘দ্রুত সদস্যপদ’ বিষয়ে ইইউ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যাগিয়ার?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুদ্ধরত ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়ার যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার অধিকার হাঙ্গেরির রয়েছে। একই সঙ্গে ইইউ জোটে ইউক্রেনকে দ্রুত সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়েও বিরোধিতা করবে হাঙ্গেরি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) হাঙ্গেরির নির্বাচনে জয় পাবার পর এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তেসজা পার্টি প্রধান পিটার ম্যাগিয়ার।
পিটার ম্যাগিয়ার বলেন, গত ডিসেম্বরে একটি চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঋণ দেওয়ার চুক্তিতে যে তহবিল গঠন করা হয়েছে তাতে অর্থ না দেওয়ার অধিকার রয়েছে হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোর।
তিনি মনে করেন, হাঙ্গেরির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ না করার অধিকার বজায় রাখা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাঙ্গেরি এখনো পর্যন্ত তার প্রাপ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তহবিল পায়নি, যা দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া ইইউ’তে ইউক্রেনের ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ সদস্যপদ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে পিটার বলেন, যুদ্ধরত কোনো দেশকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয় এবং সব দেশকেই একই নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও জানান, হাঙ্গেরি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি গণভোট আয়োজনের কথা বিবেচনা করতে পারে, তবে তা আগামী ১০ বছরের মধ্যে নয়।
এছাড়া তিনি হাঙ্গেরির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন এবং বলেন যে দেশটি রাশিয়া ও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখবে, তবে আমদানির ক্ষেত্র বহুমুখীকরণ করা হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত রাশিয়া থেকে কাঁচামাল আমদানির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, এবং যুদ্ধ শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও উল্লেখ করেন ম্যাগিয়ার।
উল্লেখ্য, আল-জাজিজার তথ্য মতে, হাঙ্গেরির নির্বাচনে ১৯৯ আসনের মধ্যে ১৩৮টি আসন পেয়েছে তিসজা পার্টি (৫৩.৬ শতাংশ ভোট)। অন্যদিকে অরবানের দল ফিডেসজ পেয়েছে মাত্র ৫৫টি আসন (৩৭.৮ শতাংশ ভোট)। এর ফলে ভিক্টর অরবানের ১৬ বছর শাসন থেকে নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে হাঙ্গেরি।
সূত্র: ইউক্রেনিফর্ম/দ্য গার্ডিয়ান
কেএম