যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৪
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও দুই নারীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক মুখপাত্র দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করে লিখেছিলেন, বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে হবে এবং সেখানে থাকলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। খবর বিবিসির।
পরে আইডিএফ জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কর্মী ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘কামান ও বিমান হামলা’ চালিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক আইডিএফ সৈন্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে।
আইডিএফ দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে তিনটি ড্রোন পাঠিয়েছে, যা সীমান্ত অতিক্রম করার আগেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রতিহত করেছে।
গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল এবং গত বৃহস্পতিবার তিন সপ্তাহের জন্য এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এই চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান আক্রমণের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় আত্মরক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
একটি সরকারি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননে আইডিএফ ‘সক্রিয় এবং শক্তি প্রয়োগ করছে’। তিনি দাবি করেছেন যে, হিজবুল্লাহর কার্যকলাপ ‘যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিচ্ছে’।
তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননের সঙ্গে সম্মত হওয়া নিয়ম অনুযায়ী জোরালোভাবে কাজ করছি। এর অর্থ হলো, শুধু আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্যই নয়, যা স্পষ্ট, বরং তাৎক্ষণিক হুমকি প্রতিহত করা এবং উদীয়মান হুমকি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও কাজ করার স্বাধীনতা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়ই একে অপরের ওপর হামলার কথা জানিয়েছে এবং একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও এনেছে।
শনিবার নেতানিয়াহু লেবাননে হিজবুল্লাহর ‘লক্ষ্যবস্তুগুলোতে জোরালো হামলা’ চালানোর জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে চালানো হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়।
টিটিএন